• ‘দলবিরোধী কাজে বিধায়ককেও রেওয়াত নয়’, সাফ বার্তা শমীকের, সাসপেন্ডেড ৩ বিজেপি নেতা
    প্রতিদিন | ০৮ জুন ২০২৬
  • দল ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন স্তরের নেতাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক বা দল বিরোধী কাজের অভিযোগ আসছে। তা নিয়ে ফের দলের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সতর্কবার্তা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের। সাফ জানালেন, দল বিরোধী কাজের অভিযোগ উঠলে বিধায়কদেরও রেয়াত করা হবে না। এরপরই দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দমদম উত্তর সাংগঠনিক এলাকায় তিন নেতাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে খবর।

    রবিবার বিজেপির বৈঠকে পার্টি অফিস দখল, গেরুয়া রং করে দেওয়া, তোলাবাজি নিয়ে ফের সতর্ক করলেন শমীক। বললেন, সবার গতিবিধি পার্টির নজরে। শমীক এও বলেন, “অনেকে আছেন যারা এইসব কাজে মদত দিচ্ছেন। বিধায়করাও যদি এই ধরনের কাজে যুক্ত থাকে তাহলে তাদের কেও রেওয়াত করা হবে না। ৫-৭ জন বিধায়ককে বের করে দিলেও দলের কোনও সমস্যা হবে না। পার্টিতে যা ইচ্ছা করা যাবে না, তৃণমূলী সংস্কৃতি চলবে না।” বাড়ি দখল, জমি দখল, শিল্পপতিদের বিরক্ত করা, এসব বরদাস্ত করা যাবে না বলে কড়া বার্তা শমীকের। এছাড়াও, জয়ী হওয়া বিরোধী দলের বিধায়কদের বাড়ির সামনে গিয়ে স্বঘোষিত দলের নেতারা লাফালাফি করছে, সেটাও ঠিক হচ্ছে না বলে সতর্ক করে দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য।

    এদিন বৈঠকে উপস্থিত দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল শমীকের কথার রেশ ধরেই বলেন, “এগুলো কেন বারবার রাজ্য সভাপতি কে আপনাদের বলতে হচ্ছে? আপনারা উপলব্ধি করুন।” এরপরই বিজেপির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সুপারিশে এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশে সাসপেন্ড করা হয়েছে নিউ বারাকপুর ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি তিতু সরকার, সহ-সভাপতি তীর্থ মিত্র এবং উত্তর শহরতলি সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক নিত্য মিত্রকে। দলীয় চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পর ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি এবং দলীয় কর্মীদের মারধর-সহ একাধিক দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে তাঁদের নাম উঠে এসেছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, গত কয়েক মাস ধরেই সাংগঠনিক প্রভাব বিস্তার ও নেতৃত্বের প্রশ্নে একাধিক গোষ্ঠীর মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। নির্বাচনের পর সেই দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়ে ওঠে। সম্প্রতি দলীয় কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারধরের অভিযোগও সামনে আসে। তারই প্রেক্ষিতে এই সাংগঠনিক পদক্ষেপ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
  • Link to this news (প্রতিদিন)