মঙ্গলকোট, 7 জুন: পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটে এক তৃণমূল কংগ্রেস নেতাকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় একটি বারোয়ারি পুজো কমিটির আর্থিক লেনদেন নিয়ে ডাকা বৈঠকের পর তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় দীর্ঘ আট দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রবিবার তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত তৃণমূল কংগ্রেস নেতার নাম মিহির ঘোষ (62)।
মিহির ঘোষ মঙ্গলকোট অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি ছিলেন। ঘটনার পর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত 31 মে সন্ধ্যায় এলাকার একটি পুজো কমিটির আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে পুরাতনহাট ধর্মরাজতলায় একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অভিযোগ, সেই বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় মিহির ঘোষকে। বৈঠক শেষ হওয়ার পর আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিবারের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর উপর চড়াও হয় এবং লাঠি, ইট-সহ বিভিন্ন বস্তু দিয়ে আঘাত করে। মারাত্মক জখম অবস্থায় মিহির ঘোষ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে মঙ্গলকোট ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতায় রেফার করা হলেও শেষ পর্যন্ত বর্ধমানের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয় তাঁকে।
চিকিৎসকরা টানা আট দিন তাঁর জীবন বাঁচানোর চেষ্টা চালান। তবে রবিবার তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে ক্ষোভ ও উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়ে পুরাতনহাট ও সংলগ্ন এলাকাগুলিতে। পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, এটি নিছক মারধরের ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হামলা। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে, মঙ্গলকোট থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং হামলার প্রকৃত কারণ কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
রবিবার বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই তদন্তে আরও গতি আসবে। বর্তমানে অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এলাকায় যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য পুলিশি নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
মৃতের ছেলে প্রবীর ঘোষ বলেন, "আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে মিটিং করার জন্য ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। মিটিং শেষে লাইট অফ করে দিয়ে লাঠি, রড, ইট দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁকে প্রথমে মঙ্গলকোট ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পরে বর্ধমান মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে একটা নার্সিংহোমে স্থানান্তর করা হয়। আজ তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলকোট থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। এখনও কেউ গ্রেফতার হয় নি।"