• দিল্লিতে গিয়ে কেজরির সঙ্গে বৈঠকে মমতা, ছিলেন অভিষেকও, সোমেই বসছে ‘ইন্ডিয়া’ শিবির
    এই সময় | ০৮ জুন ২০২৬
  • দলের অন্দরে ডামাডোল চরমে। রাজ্যে পরিষদীয় দলে ভাঙনের পরে তৃণমূলের সংসদীয় দলেও একই পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছে জাতীয় রাজনীতিতে। সেই আবহে রবিবার দিল্লি গিয়ে আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাউথ অ্যাভিনিউয়ের বাসভবনের ওই বৈঠকে ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

    সোমবার কংগ্রেসের ডাকে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ শিবিরের বৈঠক বসতে চলেছে। তার আগে মমতা-কেজরি বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, বঙ্গে বিধানসভা ভোটে জোড়াফুল পর্যুদস্ত হওয়ার পরে ঘরে–বাইরে তাদের ভাঙন যেমন স্পষ্ট, তেমনই বৈঠক শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগে ছন্নছাড়া চেহারা ‘ইন্ডিয়া’র অন্দরেও। ডিএমকে, সিপিএমের মতো বিরোধী জোটের প্রধান দুই শরিক বিরোধী জোটের বৈঠকে থাকছে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছে। কেজরির আম আদমি পার্টি এই মুহূর্তে ‘ইন্ডিয়া’ জোটে নেই। ফলে শরিকদের কত জন সোমবারের বৈঠকে থাকবে, সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। যদিও রবিবার কংগ্রেসের তরফে বর্ষীয়ান নেতা জয়রাম রমেশ এক্স হ্যান্ডলে দাবি করেছেন, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে যোগ দেবেন ২৩টি বিরোধী দলের নেতা–নেত্রীরা৷ তাঁর দাবি, ‘ভারতের মতোই ইন্ডিয়া জোট তার বৈচিত্রের মধ্যে দিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে আছে৷’

    বিরোধী জোটের অন্দরের সমীকরণ নিয়েও কৌতূহল রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বিরোধী জোটে যাবতীয় অঙ্ক পাল্টে দিয়েছে৷ বিরোধী জোটে কংগ্রেসের একাধিপত্য মানা হবে না, বিরোধী জোটের আদর্শ মুখ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই— ক’মাস আগে পর্যন্তও এই নীতিতে অটল ছিল তৃণমূল৷ সেখানে তৃণমূলনেত্রীর সমর্থনে এগিয়ে আসতে দেখা গিয়েছিল সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, আরজেডি, আপ, শিবসেনার মতো দলগুলিকে৷ তবে এই মুহূর্তে সেই ছবিটা বদলে গিয়েছে। সর্বভারতীয় প্রেক্ষাপটে এখন কংগ্রেসের ‘হাত’ ধরা ছাড়া তৃণমূলের কাছে দ্বিতীয় কোনও পথ খোলা নেই বলেই মনে করছেন অনেকে৷

    তৃণমূলের ‘বন্ধু’ এমকে স্ট্যালিনের দল ডিএমকে তামিলনাড়ুতে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, তারা কংগ্রেসের হাত ধরে চলবে না। সোমবারের ‘ইন্ডিয়া’ বৈঠকেও তারা যোগ দেবে না৷ কংগ্রেস তাদের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করে থালাপতি বিজয়ের দল টিভিকের হাত ধরার পরেই স্ট্যালিনের দল কংগ্রেসের সঙ্গে যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন করেছে৷ ডিএমকের মতোই কংগ্রেসকে নিশানা করেছে সিপিএম-ও৷ তাদের অভিযোগ, কেরালার বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে রাহুল গান্ধী বারবার দাবি করেছিলেন যে, ইউডিএফের সঙ্গে বিজেপির ‘গোপন সমঝোতা’ রয়েছে। বামেদের মতে, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের লক্ষ্যেই যখন ‘ইন্ডিয়া’ জোট গঠিত হয়েছিল, তখন শরিক দলের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ জোটের ভিত্তিকেই দুর্বল করে। সূত্রের খবর, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে চিঠি লিখেছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি। আঁতাঁতের অভিযোগ তোলার বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে বলেছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকের আগে এই চিঠি প্রকাশ্যে আসা বিরোধী ঐক্যের বার্তাকে কিছুটা হলেও ধাক্কা দিতে পারে।

    বিরোধী জোটের বৈঠকে আরজেডি সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদবের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন থাকছে৷ আরজেডি সূত্রের দাবি, শারীরিক ভাবে বেশ অসুস্থ বর্ষীয়ান নেতা লালুপ্রসাদ৷ এ দিনের বৈঠকে তিনি নিজে যোগদান না করতে পারলে তাঁর পরিবর্তে লালু–পুত্র তেজস্বী যাদবের অবস্থান কী হয়, সে দিকেও লক্ষ্য থাকবে সকলের৷

  • Link to this news (এই সময়)