মিজোরাম ‘ড্রাই স্টেট’। মদ্যপান কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। তবে এ বার বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করল জেডপিএম নেতৃত্বাধীন সরকার। নতুন আইন অনুযায়ী, চিকিৎসার প্রয়োজনে কোনও ব্যক্তিকে মদ্যপানের অনুমতি দেওয়া হবে। এর জন্য চালু হয়েছে ‘রেড কার্ড’ পারমিট। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের ছাড়পত্র দিয়েছে আবগারি দপ্তরও।
আবগারি দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, চিকিৎসার জন্য যাঁদের অ্যালকোহল সেবন জরুরি, শুধুমাত্র তাঁরাই এই পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর জন্য প্রথমে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন জমা দিতে হবে। সেই সুপারিশ যাচাই করে দেখবেন মেডিক্যাল সুপারিটেন্ডেন্ট। তার পরে আবেদনকারীকে পারমিট দেওয়া হবে।
‘রেড কার্ড’ পারমিটের মেয়াদ এক বছর। এর জন্য দিতে হবে ৫ হাজার টাকা ফি। নির্দিষ্ট সময়সীমার পরে পারমিট পুনর্নবীকরণের সুযোগও পাবেন আবেদনকারীরা। একই সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আইজলে আবগারি দপ্তর পরিচালিত নির্দিষ্ট দোকান থেকেই মদ কিনতে হবে আবেদনকারীদের। সেখানে বাজারদরের তুলনায় ৭৫ শতাংশ কমে মিলবে।
আইনে জানাোনো হয়েছে, ‘রেড কার্ড’ পারমিট থাকলেও কোনও জনসমাগমস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা হোটেলে মদ্যপান করা যাবে না। বিদেশি এবং পর্যটকদের জন্য বিশেষ পারমিটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আদা, কলা, ড্রাগন ফল, আনারস, আমলকি, পেয়ারা, কামরাঙা, আখ, কাঁঠাল, তরমুজ ও হানিডিউ মেলনের মতো স্থানীয় কৃষিজ পণ্য থেকে থেকে তৈরি ওয়াইন এবং বিয়ার উৎপাদন ও বিক্রিরও অনুমতি দেওয়া হয়েছে নতুন আইনে।
উল্লেখ্য, মিজোরামে মদের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার ইতিহাস শুরু হয় ১৯৯৫ সালে। সেই সময়ে মিজোরাম লিকার টোটাল প্রোহিবিশন অ্যাক্ট পাশ করে মদ উৎপাদন, বিক্রি এবং সরবরাহে দাঁড়ি টেনে দেওয়া হয়। আইন লাগু হয় ১৯৯৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। ১৭ বছর পরে ২০১৪ সালে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানে ফের মদ বিক্রি চালু হয়। ২০১৯-এ ক্ষমতায় আসে মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এমএনএফ)। তারা ফের মদ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এ বার চিকিৎসার প্রয়োজনে সেই নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করা হলো।