এ বার ইজ়রায়েলেও ছড়িয়ে পড়বে বাবা লোকনাথের মাহাত্ম্য। চাকলা মন্দিরের আদলে ইজ়রায়েলেও তৈরি হবে বাবা লোকনাথের মন্দির । চাকলা ধামে এসে এই কথা জানিয়েছেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর উপদেষ্টা মেনদি সাফাদি।
রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গার চাকলা লোকনাথ মন্দিরে এসেছিলেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি জানান, ইজ়রায়েলে বাবা লোকনাথের একটি মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেই বিষয়ে চাকলা মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও জানানো হয়েছে।
মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের বারদী এবং আমেরিকায় বাবা লোকনাথের মন্দির আছে। এ বার ইজ়রায়েলেও সেই ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ওই প্রস্তাবটি নিয়ে মন্দির কমিটির সঙ্গে আলোচনা চলছে। এই নিয়ে পরবর্তী কালে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। তবে প্রাথমিক ভাবে এই উদ্যোগে আপত্তির কোনও কারণ নেই বলেই জানিয়েছেন চাকলা মন্দিরের সেবায়েত বাবিন হাজরা।
রবিবার চাকলা ধামে পৌঁছলে ইজ়রায়েলি প্রতিনিধিকে বিশেষ সংবর্ধনা জানানো হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় বাবা লোকনাথের একটি ছবি। মন্দিরে বিশেষ পুজোও দেন তিনি। গর্ভগৃহে প্রবেশ করে বাবা লোকনাথের আশীর্বাদ গ্রহণ করেন তিনি। পাশাপাশি মন্দিরের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, বাবা লোকনাথের ভক্তি ও মাহাত্ম্য বহু বছর আগেই রাজ্য ও দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ইজ়রায়েলের মতো দেশে মন্দির গড়ে উঠলে আরও বেশি মানুষের কাছে বাবা লোকনাথের আদর্শ ও দর্শন পৌঁছে যাবে।
সূত্রের খবর, ভবিষ্যতে মন্দির নির্মাণের অনুমোদন মিললে চাকলা ধাম থেকেই বিশেষভাবে নির্মিত বাবা লোকনাথের মূর্তি এবং চাকলা ধামের পবিত্র মাটি ইজ়রায়েলের নিয়ে যাওয়া হতে পারে।
নতুন মন্দিরটি চাকলা লোকনাথ মন্দিরের আদলে নির্মিত হবে কি না, সে বিষয়েও আলোচনা চলছে। ইজ়রায়েলের থেকে এমন প্রস্তাব আসায় চাকলা এলাকার বাসিন্দা ও লোকনাথ ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। তাঁদের আশা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে চাকলা ধামের পরিচিতি। সেই সঙ্গে বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়বে বাবা লোকনাথের বাণী।