আবাস যোজনার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তৃণমূল নেতা মেহবুব আলমকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। রবিবার মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন আবেদনকারীদের একাংশ। অবস্থা বেগতিক বুঝে পালিয়ে যান মেহবুব। পরে ধুলিয়ানের একটি ডায়গনস্টিক সেন্টার থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, মেহবুব আলম ধুলিয়ান পুরসভার প্রাক্তন প্রশাসক। তাঁর স্ত্রী রওশনারা বিবি ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার। দীর্ঘদিন ধরেই মেহবুবের বিরুদ্ধে আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ২০-৩০ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠছিল। এ দিন তাঁরাই মেহবুবের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।
উপভোক্তাদের একাংশের অভিযোগ, শুধু কাটমানি নেওয়াই নয়, তাঁদের চেকবুক, ব্যাঙ্কের পাশবুকও নিজের জিম্মায় রেখে দিতেন মেহবুব, যাতে আবাসের টাকা এলেও কেউ তুলতে না পারেন। এমনকী নিজেই ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে উপভোক্তাদের বাড়ি নির্মাণের জন্য নিম্নমানের পাথর, বালি ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করার অভিযোগও রয়েছে মেহবুবের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ। ততক্ষণে মেহবুবের বাড়ির উপরে ক্ষোভ আছড়ে পড়েছে। উত্তেজিত জনতা ভাঙচুর শুরু করে। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় বাড়ির সিসিটিভি। এমন ঘটনা দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর এক কর্মী। অবস্থা বেগতিক বুঝে বাড়ি ছেড়ে পালান মেহবুব। ধুলিয়ানের একটি ডায়গনস্টিক সেন্টারে লুকিয়ে পড়েন তিনি। পরে সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা মেহবুবের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সামশেরগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক নূর আলম বলেন, ‘আইন আইনের পথে চলবে। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক। দুর্নীতিকে কোনও ভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’