যাদবপুরের রাস্তায় নামল বুলডোজ়ার। শুরু হলো উচ্ছেদ অভিযান। রবিবার মাঝরাতে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ বাহিনী। উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই জমায়েত করেছিলেন সিপিএম নেতা-কর্মীরা। তাঁদের উপরে ব্যাপক লাঠিচার্জ করা হয় বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই SFI-এর সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য-সহ মোট দু’জনকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
এ দিন সন্ধ্যা থেকেই যাদবপুরের ২১২ বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন সিপিএম এবং কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা। উপস্থিত ছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশ। বাবাসাহেব আম্বেদকরের ছবি, সংবিধান হাতে ‘বুলডোজ়ার হটাও’ স্লোগান দিচ্ছিলেন তাঁরা। রাত নামতেই ধীরে ধীরে এলাকা ঘিরে ফেলতে শুরু করে RPF, পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। উঁচু ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় সমস্ত রুট।
বিশাল পুলিশ বাহিনী দেখেই স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে যান সিপিএম এবং কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা। রাস্তায় বসে পড়েন অনেকেই। পুলিশের তরফে মাইকিং করে জমায়েত তুলে নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়। সময়ও দেওয়া হয় বেশ কিছুক্ষণ। কিন্তু অভিযোগ, তাতে কাজ হয়নি। তখন শুরু হয় ধরপাকড়। সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্যকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তুলে দেয় পুলিশ। অভিযোগ, জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে শুরু হয় ব্যাপক লাঠিচার্জ। পুলিশের লাঠির ঘায়ে গুরুতর জখম হন যাদবপুরের একাধিক পড়ুয়া।
এর পরেই রাস্তায় নামে বুলডোজ়ার। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় একের পর এক অবৈধ নির্মাণ। মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয় জবরদখল করে রাখা দোকান, গুমটি। এক ঘণ্টার মধ্যে খালি হয়ে যায় পুরো এলাকা। সৃজনকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময়ে প্রিজ়ন ভ্যান থেকে চিৎকার করে তিনি বলতে থাকেন, ‘রেল বেআইনি কাজ করছে। আইন আদালতকে এড়িয়ে উচ্ছেদ করছে। আমাদের বেআইনি ভাবে আটক করেছে।’ লাঠিচার্জে যাদবপুরের একাধিক পড়ুয়ার মাথা ফেটে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সিপিএম নেতৃত্ব।
ঘটনার সূত্রপাত ২ জুন। যাদবপুর স্টেশনের বাইরে বুলডোজ়ার দেখে হকার উচ্ছেদের জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদে সামিল হন সিপিএমের নেতা-কর্মীরা। তাঁদের দাবি, পুনর্বাসন না দিয়ে কাউকে উচ্ছেদ করা যাবে না। সেই সময়ে কোনও অভিযান হয়নি। তবে এ দিন বেআইনি দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল রেল কর্তৃপক্ষ।
এর আগে হাওড়া, শিয়ালদহ এবং দমদম স্টেশনেও উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে রেল। অস্থায়ী ঝুপড়ি, গুমটি, ছোট দোকান, ডালা তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে রাতারাতি এমন উচ্ছেদে ব্যবসায়ী এবং দোকানদাররা বিপাকে পড়েছেন বলেই দাবি ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের। তাঁদের অভিযোগ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বেঘর করে দেওয়া হলো। এ বার তাঁদের সংসার কী ভাবে চলবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে। তবে আর এক অংশের দাবি, রেল বা সরকারের জমি দখল করে ব্যবসা করাই বেআইনি। এই পরিস্থিতিতে যে কোনও পদক্ষেপই বৈধ।