শিলিগুড়িতে রহস্যমৃত্যু অসমের তরুণীর, বেশ কিছুদিন ধরকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল
আজ তক | ০৮ জুন ২০২৬
Siliguri Youth Girl Mystery Death: শিলিগুড়ি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অসমের এক আদিবাসী তরুণীকে শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফুলবাড়িতে এনে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখার পর তাঁর চরম অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই নৃশংস ও রহস্যজনক ঘটনার মূল অভিযুক্ত কাঞ্চু মিয়াকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতারর করেছে এনজেপি থানার পুলিশ। ধৃতকে সোমবার জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে রবিবার সকালে এই মৃত্যুর খবর চাউর হতেই স্থানীয় উত্তেজিত জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং অভিযুক্তের বাড়িতে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যে শেষ পর্যন্ত বিশাল পুলিশ বাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনীকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে মৃত ওই তরুণীর নাম জীবন্তি হেমব্রম এবং তাঁর বয়স ২৮ বছর। তাঁর বাড়ি অসমের বঙ্গাইগাও এলাকায়। অভিযোগ উঠেছে পেশায় রাজমিস্ত্রি ৪০ বছর বয়সী কাঞ্চু মিয়া প্রায় তিন মাস আগে ওই তরুণীকে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফুসলিয়ে ফুলবাড়ির শান্তিপাড়ার নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে। শান্তিপাড়ার ওই ঘরে এনে রাখার পর থেকেই তরুণীকে কার্যত বন্দি দশা কাটাত হতো বলে গুরুতর অভিযোগ। এরপর গত শুক্রবার বিকেলে আচমকাই অভিযুক্ত কাঞ্চুর ঘর থেকে জীবন্তির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ এবং পরবর্তীতে দেহটি ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়ার জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এই চরম ঘটনার পর অভিযুক্তের বৌদি গলিজা খাতুন এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে জানিয়েছেন যে কাঞ্চু ওই তরুণীকে বাড়িতে এনে লুকিয়ে রেখেছিল এবং এই বিষয়টি পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের বিন্দুমাত্র জানা ছিল না। তিনি আরও ফাঁস করেন যে কাঞ্চু এর আগেও তিন-তিনটি বিয়ে করেছিল কিন্তু তার স্বভাব চরিত্রের কারণে কোনো স্ত্রীই তার সঙ্গে টেকেনি এবং তারা প্রত্যেকেই তাকে ছেড়ে চলে যায়। স্থানীয় প্রতিবেশী রহিমা খাতুন জানান যে কাঞ্চু অত্যন্ত উগ্র প্রকৃতির মানুষ এবং তার বিরুদ্ধে এলাকায় আগেও মারামারির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেশীদের সঙ্গেও তার সম্পর্ক মোটেও ভালো ছিল না এবং তার এই অপরাধমূলক অতীত ও তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে একটি অত্যন্ত নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন শান্তিপাড়ার ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। শনিবার রাতেই এনজেপি থানার পুলিশ কাঞ্চু মিয়াকে প্রথমে আটক করে এবং পরে গ্রেপ্তার করে।