• আজ দিল্লিতে মহাজোট ইন্ডিয়ার বৈঠক, মমতার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ কেজরির
    বর্তমান | ০৮ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বাংলার ভোটের হারের পর আজ দিল্লিতে বৈঠকে বসছে মোদি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। ভোটে কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখলেও বিজেপির কাছে গোহারা হেরে এখন ফের রাহুল গান্ধীর কাছাকাছিই আসতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই কং঩গ্রেসের আয়োজনে বিরোধী জোটের বৈঠকে যোগ দিতে রবিবার দিল্লি পৌঁছেছেন তৃণমূলনেত্রী। সঙ্গে একই চাটার্ড বিমানে এসেছেন দোলা সেন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসেছেন জানতে পেরে এদিন সন্ধ্যায় তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেন আম আদমি পার্টির সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। 

    মমতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন দলের সাংসদ কীর্তি আজাদ। যেভাবে দল ভাঙার খবর ক্রমশ জোরালো হচ্ছে, সেই আবহে কীর্তি জানিয়েছেন, আমি দিদির সঙ্গেই আছি। গদ্দারদের সঙ্গে নেই। মমতাও বলেছেন, বিজেপির ভয়ে যাদের হাঁটু কাঁপছে, তারা চলে যাক। আমার কাছে যদি পাঁচজন পড়ে থাকে, তাদের নিয়েই ঘুরে দাঁড়াব। মমতার বিশ্বাস, লোকসভায় তৃণমূলে ভাঙন হলেও ২৮ জনের মধ্যে ১৩ জন তাঁর সঙ্গেই থাকবেন। বাকি আজকের বৈঠকের পর কংগ্রেস-তৃণমূল জোট মজবুত হলে আরও তিনজন যুক্ত হবেন। ফলে আলাদা ‘প্রেসার ব্লক’ তৈরিতে শক্তি পাবে না তৃণমূলের বিক্ষুব্ধরা। 

    আজ বেলা ১২টায় কনস্টিটিউশন ক্লাবে হবে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক। সেখানে অবশ্য আম আদমি পার্টি আসছে না। থাকবে না এম কে স্ট্যালিনের দল ডিএমকে’ও। সম্প্রতি তামিলনাড়ুতে টিভিকে’র সঙ্গে কংগ্রেস সরকার গড়ায় ডিএমকে ক্ষুব্ধ। তাই আপাতত কংগ্রেসকে কিছুটা এড়িয়ে চলারই নীতি  নিয়েছেন স্ট্যালিন। আম আদমি পার্টি আগেই জানিয়ে দিয়েছিল তারা ইন্ডিয়া জোটে নেই। তবু আগামী ২০২৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে যাতে মোদি বিরোধী জোটে আম আদমি পার্টি এবং ডিএমকে’কে সঙ্গে আনা যায়, তার চেষ্টা করছেন মমতা। কংগ্রেস আর এই দুই দলের মধ্যে ‘দৌত্য’র চেষ্টা করছেন। 

    ওদিকে, কেরলে এলডিএফকে হারানোয় কংগ্রেসের সঙ্গে এখন আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক সিপিএমের। তাই এদিন বৈঠকে সিপিএম যেতে আগ্রহী নয় বলেই মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে চিঠি দিয়েছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। যদিও পরে সিপিএম জানিয়েছে, রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাস বৈঠকে যোগ দেবেন। কংগ্রেসের পক্ষে জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন, ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে ২৩টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে বলে নিশ্চিত করেছে। কয়েকটি দল নিজস্ব কারণে বৈঠকে উপস্থিত থাকতে না পারার কথা জানিয়েছে। তবে তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, মোদি সরকারের নীতি এবং কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের দৃঢ় অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম জয়রামের মন্তব্য, ভারত দেশের মতোই, ইন্ডিয়া জোটও বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ। মত ও পথ ভিন্ন হতেই পারে, কিন্তু গণতন্ত্র, সংবিধান ও জনগণের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে আমাদের ঐক্য অটুট। 

    রাজনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী দিনে ভোট চুরি রুখতে কী করা যায়, তা নিয়ে আজ আলোচনা হবে। বিজেপিকে নিশ্চিত হারানোর ফর্মুলা খুঁজবে বিরোধীরা। যেভাবে মোদি সরকার কোটি কোটি ভারতীয়ের ভোটাধিকার খর্ব করার চেষ্টা করছে, তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে বিরোধী নেতাদের নিশানা করছে। তা নিয়ে আলোচনা করে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ঠিক করবে ইন্ডিয়া জোট। পাশাপাশি আলোচনা হবে মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব ও সরকারের বৈদেশিক নীতির ব্যর্থতা নিয়েও।
  • Link to this news (বর্তমান)