• বিএসএফ ও বিজিবি’র চাপানউতোরে নো ম্যান’স ল্যান্ডেই দিন কাটছে ওঁদের
    বর্তমান | ০৮ জুন ২০২৬
  • ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চাপানউতোরে ভারত-বাংলাদেশের নো ম্যান’স ল্যান্ডে খোলা আকাশের নীচে দিন-রাত কাটছে অনেকের। এ‌ই ঘটনায় জলপাইগুড়ির নগর বেরুবাড়ি সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও জট কাটেনি। ফলে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া থেকে বেশকিছুটা দূরে বাংলাদেশের দিকে জমির আলে বসে রয়েছে অন্তত জনা দশেক মানুষ। তাদের ঘিরে রয়েছেন বাংলাদেশের আরও বেশকিছু বাসিন্দা। দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে সেদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। 

    বিএসএফের ৯৩ নম্বর ব্যাটালিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অধিকারিকের দাবি, জিরো পয়েন্টে যাঁরা বসে রয়েছেন, তাঁরা সবাই বাংলাদেশি। বিজিবি তাঁদের ভারতে আসার জন্য চাপ দিচ্ছে বলে জানতে পেরেছি। আমরা কোনোমতেই বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে কাউকে ঢুকতে দেব না। ওঁদের আটকে দেওয়া হয়েছে। 

    বিএসএফ সূত্রে দাবি, তারা খোঁজখবর নিয়ে জানতে পেরেছে, নো ম্যান’স ল্যান্ডে যাঁরা বসে রয়েছেন, তাঁদের কাছে বাংলাদেশের নথিপত্র রয়েছে। কিন্তু কোনো কারণে বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার চাকলাহাট গ্রাম থেকে ধরে নিয়ে এসে ভারতে ঢোকানোর চেষ্টা করছে বিজিবি। যাঁদের ধরে নিয়ে আসা হয়েছে, তাঁরা বাংলাদেশেই থাকতে চাইছেন। কিন্তু বিজিবি তাঁদের সেদেশের ভূখণ্ডে ফিরতে দিচ্ছে না। এনিয়েই জটিলতা তৈরি হয়েছে। 

    রবিবার সকালে নগর বেরুবাড়ি পঞ্চায়েতের জয়পুর গ্রামে দেখা যায়, কাঁটাতারের বেড়ার পাশ দিয়ে চলে যাওয়া সীমান্ত রোডের দখল নিয়েছে বিএসএফ। খুব প্রয়োজন ছাড়া ওই রাস্তা দিয়ে গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াত করতে দেওয়া হচ্ছে না। জওয়ানের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। বেড়ার ওপারে অনেকটা দূরে জমির আলে বসে রয়েছেন বেশকিছু মানুষ। তাঁদের থেকে কিছুটা দূরে আরও অনেকে দাঁড়িয়ে। মাঝেমধ্যে চিৎকার করে তাঁরা ভারতের দিকে সীমান্তের গেট খুলে দেওয়ার জন্য আর্জি জানাচ্ছে। কিন্তু কোনোভাবে যাতে তাঁরা জিরো পয়েন্ট থেকে ভারতীয় সীমান্তের দিকে এগতে না পারেন, সেজন্য সতর্ক বিএসএফ। কয়েক হাত অন্তর স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রহরায় বিএসএফ। জওয়ানদের কেউ কেউ চোখ রেখেছেন দূরবীনে। রাতেরবেলা যাতে কোনোভাবে নো ম্যান’স ল্যান্ডে অপেক্ষা করা মানুষ ভারতীয় সীমান্তের দিকে চলে আসতে না পারে, সেজন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আলোর পাশাপাশি প্রহরা বাড়ানো হয়েছে। তিনদিন ধরে এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় অনেকেই খবর পেয়ে কৌতূহলবশত বিষয়টি দেখার জন্য নগর বেরুবাড়ি সীমান্তে ভিড় জমানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু বিএসএফ সীমান্তের ধারেকাছে ঘেঁষতে দিচ্ছে না। 

    নগর বেরুবাড়ির জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা কণ্ঠ রায় বলেন, জানতে পেরেছি দু’টি পরিবারের ১০ জন জিরো পয়েন্টে তিনদিন ধরে বসে রয়েছেন। বয়স্ক মানুষ যেমন রয়েছে, তেমনই মহিলা ও শিশুরাও আছে। জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা প্রভাত রায় বলেন, তিনদিন ধরে সীমান্তে উত্তেজনা রয়েছে। শনিবার প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির সময় মানবিকতার খাতিরে বিএসএফের তরফে একটা ত্রিপলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। • নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)