• একজনের ফর্ম পূরণেই পরিবারের মহিলাদের ‘অন্নপূর্ণা’
    বর্তমান | ০৮ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: পরিবার পিছু একটাই ফর্ম। সেটি পূরণ করলেই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন পরিবারের সকল ‘যোগ্য উপভোক্তা’ অর্থাৎ শাশুড়ি, বউমা ও মেয়েরা। রবিবার উত্তরবঙ্গের সচিবালয় ‘উত্তরকন্যা’ থেকে একথা ঘোষণা করেন নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, ‘অন্নপূর্ণা যোজনার পদ্ধতিগত সুবিধার জন্যই এই সিদ্ধান্ত। যোগ্য মহিলারা সবাই যোজনার সুবিধা পান, এটাই আমরা চাই।’

    দিন তিনেক আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে অন্নপূর্ণা যোজনায় আর্থিক সুবিধা প্রদান শুরু করেছে রাজ্য। গত ৩ জুন প্রথম দফায় রাজ্যের ২৮ লক্ষ মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে তিন হাজার করে টাকা। সেই সঙ্গে যোজনার পূর্ণাঙ্গ উপভোক্তা তালিকা তৈরির কাজও চলছে। মহিলাদের পূরণ করা নির্দিষ্ট ফর্ম সংগ্রহ করছে রাজ্য সরকার। এই অবস্থায় এদিন ‘উত্তরকন্যা’য় কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও দার্জিলিং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। সেখানে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। 

    সভার পর মন্ত্রী বলেন, ‘অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম যাচাইয়ে পদ্ধতিগত সুবিধার স্বার্থে এবং প্রত্যেক মহিলা যাতে যোজনার সুবিধা পান, সেই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে যেটা বলার, একটি পরিবারে একটিই ফর্ম যাবে। পরিবারের প্রত্যেক মহিলাকে একটি করে ফর্ম নিতে হবে না। কারণ, ওই ফর্মের মধ্যেই বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর লেখার জায়গা রয়েছে। পরিবারের শাশুড়ি, বউমা, মা, মেয়ে— সবার জন্য ওই একটি ফর্ম পূরণ করলেই চলবে।’ রাজ্যবাসীকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলায় ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি, অন্নপূর্ণা যোজনা তার মধ্যে অন্যতম। ইতিমধ্যে এই যোজনার প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে ১২ পাতার ফর্ম এনেছে রাজ্য। তাতে উপভোক্তার ব্যক্তিগত তথ্য ছাড়াও একাধিক পারিবারিক তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। তা নিয়ে বিতর্কও কম হচ্ছে না। রাজ্যের মহিলাদের একটা বড়ো অংশ বিভ্রান্ত। এই অবস্থায় মন্ত্রীর এই ঘোষণা তাঁদের স্বস্তি দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে। যোজনার ফর্ম সংগ্রহ করতেই যেভাবে মহিলাদের হয়রান হতে হচ্ছে, রাশ টানা যাবে সেই ভোগান্তিতেও। তবে ইতিমধ্যে অনেক পরিবারে মহিলারা পৃথক পৃথকভাবে ফর্ম পূরণ করে জমাও দিয়ে ফেলেছেন। প্রসঙ্গত, বিধানসভা ভোটের প্রচারে বাংলায় এসে তৎকালীন তৃণমূল সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর বদলে বাংলার মহিলাদের মাসে তিন হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আগের সরকার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এ মহিলাদের প্রতি মাসে ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকা করে দিত। 
  • Link to this news (বর্তমান)