• তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার মেমারির গফ্ফর, তোলা না দিলেই তুলে এনে চলত মারধর
    বর্তমান | ০৮ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: মেরেকেটে দু’থেকে আড়াই বিঘা জমি ছিল। বাড়ি ছিল মাটির। সংসারের অভাব অনটনের ছাপ ছিল সর্বত্র। সেই পরিবারের ছেলে গফ্ফর মল্লিকের তেমন কোনো কাজ ছিল না। ঘুরে বেড়াতেন। সাইকেল কেনারও ক্ষমতা ছিল না। এর ওর বাইকের পিছনে চড়ে ঘোরাঘুরি করতেন। তৃণমূলের জমানায় পদ পাওয়ার পরই হাতে যেন জাদুদণ্ড পেয়ে যান তিনি। রাতারাতি দামি গাড়ির সওয়ারি হয়ে ওঠেন। বাড়ির ভোল বদলে যায়। গ্রামে থাকতে ইচ্ছে না করলেই বর্ধমানের নবাবহাটের কাছে একটি উপনগরীতে এসে থাকতেন। নামে বেনামে বিভিন্ন জায়গায় তাঁর সম্পত্তিও রয়েছে। মেমারি-২ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তথা তৃণমূলের সেই নেতা গফ্ফর মল্লিক গ্রেপ্তার হওয়ার পর হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন বাসিন্দারা। 

    পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি দেওয়া সহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। বেশ কিছুদিন তাঁর হদিশ পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে শনিবার রাতে তাঁকে জালে তোলে পুলিশ।

    স্থানীয়রা বলেন, গফ্ফর পারিবারিক বিষয়েও হস্তক্ষেপ করতেন। তিনি নিজের পার্টি অফিসে ‘বিচারসভা’ বসাতেন। সেখানে অপছন্দের লোকজনদের তুলে এনে বেধড়ক মারধর করা হত। তিনি যে কারও কাছেই মাঝেমধ্যে তোলা চাইতেন। তা না দিলেই মারধর করা হত। 

    এক বাসিন্দা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন, তাঁর কাছে গফ্ফর ৫০ হাজার টাকা তোলা নিয়েছিল। শান্তিপূর্ণভাবে থাকতে হলে ওই টাকা দিতে হবে বলে গফ্ফর জানায়। টাকা না দিলে অত্যাচারের হুমকি দিতে থাকে। ভোটের ফলাফল বেরনোর পর তিনি টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাঁকে আবার হুমকি দেওয়া হয়। এরপরই তিনি থানার দ্বারস্থ হয়েছিলেন। 

    স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দলের এক মন্ত্রীর হাত তাঁর মাথার উপর ছিল। তাঁর সংস্পর্শে আসার পর থেকেই তাঁর প্রভাব বাড়তে থাকে। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকেও তাঁর বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছিল। তারপরও দলে কেউ তাঁর বিরুদ্ধে কিছু করার সাহস দেখায়নি। এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সমস্যা হলেই গফ্ফরের গ্যাং সেখানে পৌঁছে যেত। এরপর দু’পক্ষর কাছে থেকেই তারা টাকা দাবি করত। 

    বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, ওই তৃণমূল নেতা আমাদেরও বহু কর্মীর উপর অত্যাচার করেছে। তার দাপটে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে থাকত। বহু লোকের কাছে সে তোলা আদায় করেছে। এলাকায় নামে বেনামে তার সম্পত্তি রয়েছে। এছাড়া বর্ধমানেও এক একটি ফ্ল্যাটে এসে থাকত। সেটা তারই বলে অনেকেই জানে। পুরো ঘটনার তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, কেউ অন্যায় করলে নিশ্চয়ই পদক্ষেপ নেওয়া হোক। কিন্তু, কাউকে মিথ্যা কেসে ফাঁসানো উচিত নয়।

     বর্ধমানে তৃণমূল নেতা শ্যামল রায় গ্রেপ্তার: তৃণমূল নেতা শ্যামল রায়কে গ্রেপ্তার করল বর্ধমান থানার পুলিশ। তাঁকে রবিবার বর্ধমান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ভোটের ফল বেরনোর পর থেকেই পুলিশ তাঁকে খুঁজছিল। তিনি আগে বিজেপির দাপুটে নেতা ছিলেন। পরে বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক খোকন দাসের হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করেন। স্থানীয়দের দাবি, তিনি নীলপুর এলাকায় দাপিয়ে বেড়াতেন। বর্ধমান থানার পুলিশ আরও কয়েকজনের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন কাউন্সিলারও রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি দেওয়া সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। 

     ধৃত অভিযুক্ত। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)