• স্কুলের হস্টেল বন্ধ করতেই প্রথম শ্রেণির ছাত্রীকে নৃশংস খুন, তদন্তে হাড়হিম তথ্য
    বর্তমান | ০৮ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগরে প্রথম শ্রেণির ছাত্রীকে খুনের ঘটনায় স্কুলেরই নবম শ্রেণির দুই ছাত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ধৃতরা এমন কিছু করতে চেয়েছিল যাতে ওই স্কুলের হস্টেল বন্ধ হয়ে যায়। হস্টেলের দম বন্ধ করা পরিবেশ থেকে মুক্তি পাওয়াই ছিল তাদের লক্ষ্য। আর তাই সঞ্জনা মণ্ডলকে(৭) নৃশংসভাবে খুন করার ফন্দি আঁটে তারা। শুক্রবার রাতে আবাসনের ভিতরে প্রথমে তারা সঞ্জনাকে জলে ডুবিয়ে মারার চেষ্টা করে। তারপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে ব্লেড দিয়ে ওই ছাত্রীর হাতের শিরা কেটে দেয়। নবম শ্রেণির দুই ছাত্রীর এমন কর্মকাণ্ডে হতবাক তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত এক ছাত্রীর ডায়েরি তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। তাতে লেখা রয়েছে হস্টেল বন্ধ করে দেব। এই ঘটনায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত করছে।

    খুনের ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ দুই ছাত্রীকে গ্রেপ্তার করে তাদের মোটিভ পুলিশের কাছে স্পষ্ট হয়েছে। রবিবার স্কুলের হস্টেল প্রশাসনের তরফ থেকে খালি করা দেওয়া হয়েছে‌। মেয়েদের বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছেন অভিভাবকরা‌। রবিবার ওই স্কুলে যান কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক তারকনাথ চট্টোপাধ্যায়। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার এসপি ওয়াই রঘুবংশী বলেন, ‘খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্কুলের দুই ছাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে স্কুলের হস্টেল বন্ধ করার জন্যই অভিযুক্তরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ফরেনসিক ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সহ বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ জোগাড় করে দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি করাই আমাদের লক্ষ্য।

    প্রসঙ্গত, শনিবার সকালে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার কুইন্স উচ্চ বিদ্যালয়ের হস্টেলের বাথরুম থেকে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী সঞ্জনা মণ্ডলের নিথর দেহ উদ্ধার হয়। বাথরুমের ভেতর একটি বালতির মধ্যে মুখ গোঁজা অবস্থায় সঞ্জনা পড়েছিল। প্রথমে সকলেই এটাকে দুর্ঘটনা বলে মনে করেছিল। কিন্তু, তদন্ত যত এগিয়েছে রহস্য তত ঘনীভূত হয়েছে। পুলিশ ১৫ জনের টিম গঠন করে হস্টেলে থাকা ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে। তদন্তকারীরা জানতে পারে, দু’জন নবম শ্রেণির ছাত্রী অন্যান্য আবাসিকদের বিগত কয়েক দিন ধরেই হস্টেল বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলছিল। তারা এমন কিছু করতে চায় যাতে স্কুলের হস্টেল বন্ধ হয়ে যায়। কারণ হস্টেলে মোবাইল ব্যবহারের অনুমতি ছিল না। কড়া নিয়মের বেড়াজলে তাদের থাকতে হত। তা থেকে মুক্তি পেতেই এই ঘটনা ঘটায় ওই দুই ছাত্রী। শনিবার গভীর রাতে তারা সঞ্জনাকে খুনের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করে।

    পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে, শুধুমাত্র সঞ্জনাই তাদের টার্গেটে ছিল না। অন্যান্য আবাসিকদেরও খুনের পরিকল্পনা করেছিল তারা। দীর্ঘ সময় ধরেই এই পরিকল্পনা করেছিল তারা।‌ শুক্রবার বিকালে সঞ্জনার বাবা তাকে হস্টেলে রেখে যায়। আর পরদিন সকালেই বাথরুমে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তদন্তে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে অভিযুক্ত দুই ছাত্রীর সঙ্গেই একই বিছানায় শুয়ে ছিল সঞ্জনা। রাতে বাথরুমে যাওয়ার সময় ওই দুই ছাত্রীকে নিয়ে গিয়েছিল সে। বাথরুমে যাওয়ার পরই প্রথমে সঞ্জনাকে বালতির জলে মুখ ডুবিয়ে খুন করা হয়। তারপর মৃত্যু নিশ্চিত হতে হাতের শিরা ব্লেড দিয়ে কেটে দেয়। জেলা পুলিশের এক আধিকারিকের কথায়, এত অল্প বয়সে এভাবে ঠান্ডা মাথায় খুন দেখা যায় না। ওরা ভেবেছিল জামাকাপড় ধুয়ে ফেললে আর কোনো প্রমাণ 

    থাকবে না।
  • Link to this news (বর্তমান)