জাল এসটি সার্টিফিকেট দিয়ে খড়্গপুর আইআইটিতে চাকরি! কাজ থেকে সরানোর দাবিতে কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ আদিবাসী সংগঠন
বর্তমান | ০৮ জুন ২০২৬
মণিরাজ ঘোষ, খড়্গপুর: পদবি ‘বিশ্বাস’। অথচ, এসটি! অভিযোগ, জাতিগত জাল শংসাপত্র বের করে সম্মানজনক চাকরিও জুটিয়ে নিয়েছিলেন নদীয়ার যুবক দেবরাজ বিশ্বাস। সেটাও আবার খড়্গপুর আইআইটির মতো বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। শেষ রক্ষা অবশ্য হল না! বিশ্বাসের জাল সার্টিফিকেট বাতিল করে দিল রাজ্য সরকারের অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তর। এবার নিজের চাকরিও হারানোর পথে অভিযুক্ত যুবক। ইতিমধ্যেই দেবরাজের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী কল্যাণ সমিতি। সেইসঙ্গেই দেবরাজের জায়গায় অপেক্ষমান তালিকায় থাকা খড়্গপুর গ্রামীণের রাহুল মান্ডির চাকরি নিশ্চিত করার দাবিও তোলা হয়েছে সংগঠনের তরফে। ঘটনাটি ঘিরে এখন সরগরম খড়্গপুর আইআইটি। এই ঘটনায় যথাযথ পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন খড়্গপুর আইআইটির ডিরেক্টর, অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী।
শপথ নেওয়ার পরই আদিবাসী ও অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ‘আগের সরকার যত ফেক এসটি সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে, সব শেষ করে দেব।’ সেই অভিযান শুরুও হয়ে গিয়েছে। গত ১ জুন ৫ জন এবং ৫ জুন ২ জনের জাল এসটি সার্টিফিকেট বাতিল করেছে অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তর। ৫ জুনের বিজ্ঞপ্তিতে নাম রয়েছে দেবরাজ বিশ্বাসের। ২০২৩ সালের মে মাসে খড়্গপুর আইআইটিতে জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন তিনি। মোট ৪০টি শূন্যপদের মধ্যে এসটিদের জন্য সংরক্ষিত আসন ছিল মাত্র একটি। ওই আসনেই নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন নদীয়ার ধানতলা থানার হোসেনপুর গ্রামের যুবক দেবরাজ বিশ্বাস। আর অপেক্ষমান তালিকায় ছিলেন খড়্গপুর গ্রামীণের সালুয়ার যুবক রাহুল মান্ডি। ‘বিশ্বাস’ কি করে এসটি হতে পারে? সন্দেহ হয় রাহুলের। তিনি পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী কল্যাণ সমিতি সংগঠনের দ্বারস্থ হন। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সংগঠনের তরফে চিঠি দেওয়া হয় নদীয়ার রানাঘাটের মহকুমাশাসককে। তদন্ত শুরু করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। শেষমেশ রাজ্যে পালাবদলের পর গত ২৭ মে দেবরাজের এসটি সার্টিফিকেট বাতিল করেন রানাঘাটের বর্তমান মহকুমাশাসক। সেই সূত্র ধরেই গত ৫ জুন অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তরের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই দেবরাজের চাকরি বাতিলের দাবিতে সরব হয়েছে বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠন। খড়্গপুর আইআইটি কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের পশ্চিম মেদিনীপুর শাখার সম্পাদক জলেশ্বর মুর্মু বলেন, ‘ইতিমধ্যেই আমাদের সেন্ট্রাল কমিটি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে। দেবরাজ বিশ্বাসের চাকরি বাতিলের দাবিতে এবং সেই স্থানে রাহুল মান্ডির চাকরির দাবিতে বুধবার খড়্গপুর আইআইটি অভিযান করা হবে।’ ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহলের মেদিনীপুর জেলার জগ পারগানা শিবুলাল মুর্ম্মু বলেন, ‘এরকম হাজার হাজার জাল এসটি সার্টিফিকেট এবার বাতিল হবে।’ আইআইটি কর্তৃপক্ষের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তী। রবিবার তিনি ফোনে বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তে দেশের বাইরে আছি। তবে, আমাদের কমপ্লেন সেলে অভিযোগ আসার পরই আমাদের লিগ্যাল লিঁয়াজো অফিসারকে এই বিষয়ে দায়িত্ব দিয়েছি। আশা করছি, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই আমরা সিদ্ধান্তে আসতে পারব।’ এদিকে, দেবরাজের একটি মোবাইল নম্বরে ফোন করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।