• শওকতের গোরু ও সোনা পাচারের কারবার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের নজরে
    বর্তমান | ০৮ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার গোরু পাচারের কারবার এবার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের নজরে। এপার  থেকে যেত গোরু। ওপার থেকে আসত চোরাই সোনা। এই সোনা তৃণমূল নেতা পৌঁছে দিতেন অসাধু সোনার কারবারিদের হাতে। তাঁদের কাছ থেকে নিতেন নগদ, যা  গোরু পাচার করে আসা। খোঁজ করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য পাচ্ছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দল। এই অসাধু কারবার চালাতে তৃণমূলের এক প্রভাবশালী নেতা তাঁকে মদত দিতেন বলে জানা যাচ্ছে। এই কারবার থেকে আসা টাকা বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিলেন ক্যানিংয়ের এই দাপুটে নেতা।

    ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় এনআইএ হেপাজতে রয়েছেন শওকত । তদন্তে উঠে আসছে বোমা তৈরিকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যান এই নেতা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় একাধিক বোমা তৈরির কারখানা গড়ে তোলেন। যেখানে বোমা বাঁধায় দক্ষ কারিগররা তিন শিফটে কাজ করত। এই বোমা সাপ্লাই হত হাওড়া, কলকাতাসহ বিভিন্ন জায়গায়। তবে এর বাইরে দাপুটে এই নেতার একাধিক কালো কারবারের তথ্য সামনে আসছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের কাছে। তাঁরা জেনেছেন, বাম জমানা থেকে গোরু পাচারের ব্যবসা করছেন। তখন লুকিয়ে চুরিযে পাচারের কারবার করতেন। এর জন্য তাঁর অস্ত্রধারী একটি টিম রয়েছে। তৃণমূল আমলে এই কারবার প্রকাশ্যে শুরু করেন। তাঁর দাপটের কাছে কেউ মুখ খোলার ছিল না। 

    গোয়েন্দারা কাছে আসা তথ্য অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডের বেআইনি হাট থেকে গোরু কিনতেন তাঁরা। এরপর সড়ক পথে প্রতিদিন লরিতে করে সেই গোরু আসত চুনাখালিতে। সেখানে একটি জায়গায় গোরুগুলি রাখা হত। এখান থেকে নদী পার করে এই গোরু আনা হত কচুখালি এলাকায়। নীচে টায়ার, উপরে কলা পাতার ভেলায় করে নদী পার করানো হত গোরু। কচুখালি থেকে গোরু কুমিরমারি দিয়ে বাংলাদেশে পাঠতেন এই তৃণমূল নেতা। সপ্তাহে চারদিন  সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলত পাচার। তাঁর গোরু পাচারের কারবারে জড়িত বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলে গোয়েন্দারা জেনেছেন, বাংলদেশে প্রায়ই যেতেন ক্যানিংয়ের এই তৃণমূল নেতা। সেই সুবাদে তাঁর সঙ্গে গোরু পাচারের কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। এরপর এই কারবার শুরু করেন তিনি।

    তবে গোরু পাচারের পেমেন্ট আসত সোনায়। গোয়েন্দারা জেনেছেন, বাংলাদেশে  অবৈধ সোনা পাচারে যুক্ত লোকদের সঙ্গে যোগযোগ ছিল শওকতের। গোরুর বিনিময়ে আসা সোনা তিনি এরাজ্যের বেআইনি কারবারিদের সরবরাহ করতেন এবং পেতেন নগদ টাকা। গোরু ও সোনা পাচার করে বিপুল অর্থ রোজগার করেছেন এই তৃণমূল নেতা। এর একটা ভাগ তৃণমূলের এক বড়ো  মাপের নেতার কাছে গিয়েছে বলে খবর। শওকত বেআইনি কারবার করে গত ১৫ বছরে কত রোজগার করেছেন তার হিসাব কষছেন গোয়েন্দারা।  ফাইল চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)