• ফেরিঘাট-দীঘা বাসস্ট্যান্ড জুড়ে বিশ্বমানের হাওড়া স্টেশন, রেলমন্ত্রীকে প্রস্তাব রাজ্যের প্রতিমন্ত্রীর
    বর্তমান | ০৮ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া স্টেশনকে কেন্দ্র করে গঙ্গার ফেরিঘাট থেকে দীঘা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকাকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ধাঁচে আধুনিক পরিবহণ কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার প্রস্তাব দিলেন উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। শনিবার রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে বৈঠকে তিনি হাওড়ার সামগ্রিক পরিবহণ পরিকাঠামোর উন্নয়নের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব পেশ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের বাস ও ট্যাক্সি টার্মিনাল, মাল্টি-স্টোরিড পার্কিং, স্কাইওয়াক, মেট্রো সম্প্রসারণ এবং রেলের অব্যবহৃত জমির পরিকল্পিত ব্যবহার।

    উমেশ রাই বলেন, হাওড়া স্টেশন পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ত পরিবহণ কেন্দ্র। প্রতিদিন কয়েক লক্ষ যাত্রী রেল, বাস, ট্যাক্সি ও ফেরি পরিষেবা ব্যবহার করে যাতায়াত করেন এখান থেকে। কিন্তু সেই তুলনায় আধুনিক ও সমন্বিত পরিকাঠামোর অভাব দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট। স্টেশন থেকে বেরিয়ে বহু যাত্রীই বুঝতে পারেন না কোন দিকে ফেরিঘাট কিংবা কোন দিকে বাসস্ট্যান্ড। সেই কারণেই হাওড়া স্টেশনকে কেন্দ্র করে গঙ্গার ফেরিঘাট থেকে দীঘা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত পুরো এলাকাকে একটি সমন্বিত মাল্টি-মোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব হিসাবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে রেলমন্ত্রীকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই এলাকায় বিশ্বমানের বাস ও ট্যাক্সি টার্মিনালের পাশাপাশি মাল্টি-স্টোরিড পার্কিং ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হবে। স্টেশন থেকে বেরিয়েই যাতে যাত্রীরা স্কাইওয়াক এবং চলন্ত সিঁড়ির মাধ্যমে সরাসরি বাস টার্মিনাল, ট্যাক্সি স্ট্যান্ড, পার্কিং জোন কিংবা ফেরিঘাটে পৌঁছাতে পারেন। এর সঙ্গেই থাকবে আধুনিক যাত্রী প্রতীক্ষালয়, ডিজিটাল তথ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট পিক-আপ ও ড্রপ-অফ জোন এবং সুসংগঠিত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

    বিধায়কের দাবি, বর্তমানে হাওড়া স্টেশন চত্বর এবং সংলগ্ন এলাকায় যানজট নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাওড়া ব্রিজে ওঠার মুখে প্রতিদিন বাস ও গাড়ির লম্বা লাইন লেগেই থাকে। পার্কিংয়ের সমস্যাও বড়ো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই রেলের মালিকানাধীন জমিগুলিকে অবৈধ দখল ও অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংমুক্ত করে উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করার প্রস্তাব রেলমন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, রেলের জমিকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে পার্কিং, যাত্রী পরিষেবা এবং অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরির নতুন সুযোগ তৈরি হবে। শুধু তাই নয়, হাওড়া স্টেশনের উপর চাপ কমাতে এবং শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বি গার্ডেন থেকে বালি পর্যন্ত নতুন মেট্রো করিডর এবং হাওড়া ময়দান থেকে সাঁতরাগাছি পর্যন্ত মেট্রো সম্প্রসারণের প্রস্তাবও রেলমন্ত্রীর কাছে দেওয়া হয়েছে। উমেশ রাই বলেন, ‘এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে হাওড়া শুধু রাজ্যের নয়, পূর্ব ভারতের অন্যতম আধুনিক পরিবহণ কেন্দ্র হিসাবে গড়ে উঠবে। একইসঙ্গে যুব সমাজের কাছে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব প্রস্তাবগুলির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন এবং বিষয়গুলি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।’
  • Link to this news (বর্তমান)