• বারাসতের ১১ নম্বর রেলগেটে ওভারব্রিজ জরুরি, রেলমন্ত্রীর কাছে আরজি বিধায়কের
    বর্তমান | ০৮ জুন ২০২৬
  • শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: রেলগেট নামার শব্দটাই যেন যানজটের পূর্বাভাস! গেট নামল মানে থমকে যায় উত্তরবঙ্গমুখী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। দাঁড়িয়ে পড়ে একের পর এক গাড়ি। বারাসতের ১১ নম্বর রেলগেটে এই দুর্ভোগ নতুন কিছু নয়। কিন্তু সমাধান অধরা। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের দাবিকে সামনে রেখে ১১ নম্বর রেলগেটে ওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য রেলমন্ত্রকের কাছে লিখিত আবেদন জানালেন বারাসতের বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায়। এক্ষেত্রে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুফল দ্রুত মিলবে বলে আশাবাদী তিনি। 

    ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান রাস্তা। বারাসতের ডাকবাংলো মোড় থেকে কলোনি মোড় হয়ে কৃষ্ণনগরের দিকে চলে যাওয়া এই জাতীয় সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার ছোটো-বড়ো যানবাহন যাতায়াত করে। সেই ব্যস্ত সড়কের উপরেই রয়েছে শিয়ালদহ-বারাসত শাখার ১১ নম্বর রেলগেট। ট্রেন এলেই গেট পড়ে যায়। শুরু হয়ে যায় যানজট। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এভাবেই চলতে থাকে। গেট খোলার পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ার আগে আবার ট্রেন আসার সময় হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা সুবীর দাস বলেন, ‘এই জায়গায় একটি রেলওয়ে ওভারব্রিজ অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল।’ স্থানীয় টোটোচালক শেখ সফিকুলের কথায়, ‘গেট নামলেই যাত্রীরা বিরক্ত হয়ে পড়েন। রেলগেটের জ্যাম বারাসতের নিত্যদিনের সমস্যা।’ স্থানীয়দের মতে, ওভারব্রিজই হল দীর্ঘকালীন এই সমস্যার একমাত্র স্থায়ী সমাধান। সেই দাবিই এবার রেলমন্ত্রকে পৌঁছে দিলেন নবনির্বাচিত বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায়। শনিবার কলকাতায় আসেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। সেখানেই রেলমন্ত্রকের কাছে আবেদনের চিঠি জমা দিয়েছেন তিনি। ১১ নম্বর রেলগেটে ওভারব্রিজ ছাড়াও বারাসত জংশনের প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে এস্ক্যালেটর, যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা, শৌচাগার নির্মাণের আবেদন করা হয়েছে। বারাসত থেকে বনগাঁমুখী লাইনে রেলওয়ে আন্ডারপাস তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।

    রেললাইন পারাপার সংক্রান্ত সমস্যা থাকায় বহু এলাকায় যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় লাগে। থাকে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। তাই ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে মেট্রো ও রেল পরিষেবার মধ্যে আরও ভালো সংযোগ গড়ে তোলার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। মেট্রো স্টেশন থেকে নেমে যাতে যাত্রীরা যাতে সহজেই বারাসত রেলস্টেশনে পৌঁছাতে পারেন, সে বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। শংকরবাবুর কথায়, ‘মানুষ আমাকে বিশ্বাস ও ভরসা করে ভোট দিয়েছেন। আমি কাজের মাধ্যমে তা পূরণ করতে বদ্ধপরিকর। বারাসতের মানুষের প্রাথমিক সমস্যা নিয়ে রেলমন্ত্রকে লিখিত দিলাম। আশা করি, দুর্ভোগের অবসান হবে।’  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)