নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: হাবড়ার বহুচর্চিত সিন্ডিকেটরাজের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করলেন বিজেপি বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, সাধারণ মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করে ব্যবসা চালানোর দিন শেষ। কেউ যদি সিণ্ডিকেটের স্বপ্ন দেখেন, সেই স্বপ্ন ভাঙার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
গত কয়েক মাস ধরে হাবড়ায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরছেন বিধায়ক দেবদাসবাবু। দলীয় তরফে দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একাধিক অস্বচ্ছ প্রথার বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করতেই এই উদ্যোগ। সেই তালিকায় এখন সবচেয়ে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে সিন্ডিকেট। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাবড়া শহর বা গ্রামীণ এলাকায় বাড়ি নির্মাণ কিংবা সংস্কারের কাজ করতে গেলে সিণ্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই থাকতে হয়। বালি, ইট, পাথর, সিমেন্ট থেকে শুরু করে নির্মাণের বিভিন্ন সামগ্রী কোথা থেকে কিনতে হবে, তা ঠিক করে দিত প্রভাবশালী চক্র। বাজারে অন্যত্র কম দামে সামগ্রী পাওয়া গেলেও নির্দিষ্ট সরবরাহকারীদের কাছ থেকেই জিনিস কিনতে চাপ দেওয়া হত বলে অভিযোগ। শুধু নির্মাণ সামগ্রীই নয়, নানা ক্ষেত্রে স্থানীয় স্তরে প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও বারবার উঠেছে। সূত্রের দাবি, এই কারবারের টাকা ঘুরপথে পৌঁছে যেত উপরমহলে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। মানুষ প্রকাশ্যে অভিযোগ জানাতে শুরু করেছেন। এই আবহে সিন্ডিকেটের রমরমার বিষয়টি কানে আসতেই কড়া অবস্থান নিয়েছেন দেবদাস।
সম্প্রতি হাবড়া পুরসভার কাউন্সিলারদের নিয়ে বৈঠকে বিধায়ক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, কোনো ধরনের দাদাগিরি, জবরদস্তি বা বেআইনি প্রভাব খাটানো বরদাস্ত করা হবে না। উন্নয়নের নামে কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের জোরে মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। দেবদাসের বক্তব্য, ‘মানুষের কষ্টের টাকা লুটে খাওয়ার রাজনীতি আর চলবে না। কেউ যদি মনে করেন, আগের মতো সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাবেন, তা হলে তিনি ভুল করছেন। হাবড়ায় জিরো টলারেন্স নীতি চালু হয়েছে।’
বিধায়কের এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে এলাকাবাসী। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক তরজা নয়, তাঁরা বাস্তবে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চান। দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা চাপের মুখে নির্দিষ্ট জায়গা থেকে সামগ্রী কিনতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের আশা, প্রশাসন এবার কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। অনেকের মতে, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া গেলে সাধারণ মানুষের বাড়িঘর মেরামতি বা নির্মাণের খরচ কমবে। বাজারে ফিরবে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতাও। নিজস্ব চিত্র