মাতলার চর দখল করে বৃদ্ধাশ্রম তৈরি! কাঠগড়ায় ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক
বর্তমান | ০৮ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এবার ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাসের তৈরি বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে বিতর্ক। অভিযোগ, মাতলা নদীর চর দখল করে সেটি তৈরি করা হয়েছে। জায়গাটি সরকারের দাবি করে ক্যানিং মহকুমা শাসকের তরফে আগামী ১৮ জুন বিধায়ককে সব কাগজপত্র নিয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, সরকারি জায়গা বেআইনিভাবে দখল করা হয়েছে। যদিও বিধায়ক জানিয়েছেন, নদীর চর হলেও নিয়মমাফিক সেটির চরিত্র বদল করা হয়েছে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মেনে সব কাজ হয়েছে। চক্রান্ত করে এইসব মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে।
ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লার ক্যাফেটেরিয়া নিয়ে আগেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তাঁকে কাগজপত্র নিয়ে ক্যানিং মহকুমা শাসকের অফিসে দেখা করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে মৌখালি সেতু সংলগ্ন নদীর চর দখল করে গজিয়ে ওঠা একাধিক দোকানপাটের মালিকদেরও সেই নোটিস ধরানো হয়েছে। এবার এই তালিকায় সংযোজন হল ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভার চাঁদমণি বৃদ্ধাশ্রম। বিধায়কের মায়ের নামে তৈরি এই ভবন ঘিরেই এখন চাপানউতোর শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে ক্যানিংয়ের হাইস্কুল পাড়ায় নির্মিত হয়েছে এই বৃদ্ধাশ্রম। বিধায়কের দাবি, বর্তমানে এখানে ২০-২২ জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা থাকেন। পাশাপাশি কিছু উদীয়মান ফুটবলারও আবাসিক হয়ে থাকেন।
বৃদ্ধাশ্রমে একটি পুলিশ ক্যাম্প, সুসজ্জিত বাগান, বিশালাকার হনুমান মূর্তি প্রভৃতি রয়েছে। এতদিন এই নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য না হলেও হঠাৎ করে মহকুমা শাসকের স্বাক্ষরিত এক চিঠি ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, যেখানে এই বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণ করা হয়েছে সেটি সরকারি জমি। অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র নিয়ে আসতে হবে বিধায়ককে।
চিঠি প্রসঙ্গে পরেশবাবু বলেন, সেই সময় ভূমি ও ভূমি সংস্কার বিভাগের মাধ্যমে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সরকারিভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে জমিটি। এই বৃদ্ধাশ্রম ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে চলে। আমার কাছে যাবতীয় কাগজপত্র আছে। আমি সব নিয়ে যাব আগামী ১৮ তারিখে।