টেন্ডার ছাড়া ১১০ কোটির রাস্তার কাজ বিজেপির অভিযোগ ২ কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে
বর্তমান | ০৮ জুন ২০২৬
সংবাদদাতা, বজবজ: বিধানসভা ভোটের আগে পথশ্রী প্রকল্পে মহেশতলা পুর এলাকা জুড়ে ১১০ কোটি টাকার উপর রাস্তা তৈরির কাজ হয়েছে টেন্ডার ছাড়াই। সেই কারণে ভোটের ফল বেরনোর পর অধিকাংশ জায়গাতে রাস্তার কাজ অর্ধেক হয়ে পড়ে আছে। এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ডহারবার সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি পিন্টু ভট্ট। তাঁর আরও অভিযোগ, এইভাবে তড়িঘড়ি কাজ করার ব্যাপারে পিছন থেকে কলকাটি নেড়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহধন্য কাউন্সিলার গোপাল সাহা, যাঁকে আগামী দিনে মহেশতলা পুরসভার ভাবী চেয়ারম্যান হিসাবে প্রজেক্ট করেছিল অভিষেক শিবির। বিজেপির সহ-সভাপতির কথায়, পুরো বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে গণস্বাক্ষর করে নালিশ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি এনিয়ে বিজেপি সাংগঠনিকভাবে মহেশতলা পুরসভা জুড়ে আন্দোলনে নামতে চলেছে।
মহেশতলা পুরসভার চেয়ারম্যান দুলাল দাস বলেন, পথশ্রী প্রকল্প কেএমডিএ থেকে করেছে। সেখানে গোপাল সাহার কোনও ভূমিকা আছে কি নেই, তা কেএমডিএ বলতে পারবে। আর ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার গোপাল সাহা বলেন, টেন্ডার ছাড়া কেউ কোনও কাজ করতে পারে না। এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। এটা ঠিক রাস্তার কাজ যখন শুরু হয়েছিল, আমার ওয়ার্ডে তা দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আমাকে। সেই সময় দখল সরিয়ে রাস্তা যাতে চওড়া হয়, তা দেখেছিলাম। এর বাইরে আমার কোনও ভূমিকা নেই।
প্রসঙ্গত, বজবজে পাঁচ কাউন্সিলারের কাজকর্ম নিয়ে আগে থেকেই বিস্তর অভিযোগ ছিল নাগরিকদের। ফলে ফল বেরনোর পর থেকে তাঁরা পালিয়ে যান। একদিন আগে তার ভিতর একজনকে ধরা হয়েছে। এছাড়া মহেশতলা পুরসভা এলাকায় বিজেপি থেকে দু’জন কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিস্তর। তার মধ্যে রয়েছেন অভিষেক ঘনিষ্ঠ ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার যুব সভাপতি শুভ নাগচৌধুরী এবং ৩৪ নম্বরের গোপাল সাহা। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের কথায়, এই দু’জনই আমাদের দলের লোকজনের উপর সবচেয়ে বেশি অত্যাচার করেছেন। এঁদের মদতেই অবৈধ নির্মাণ, পুকুর ভরাট থেকে নানা ধরনের আইনবহির্ভূত কাজ হয়েছে। ভোটের ফল বেরনোর পর থেকেই শুভ নাগচৌধুরী পলাতক। ফলে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিজেপির সহ-সভাপতি পিন্টু ভট্ট বলেন, ভোটের আগের দিন আমাদের ৬ নম্বর মণ্ডল সভাপতি লাল্টু পাঁজাকে পরিবারের সামনে মারধর করেছেন গোপাল সাহা। এই নিয়ে থানায় অভিযোগও হয়েছে। আরও বেশ কয়েকজনকে এলাকাছাড়া করা হয়েছিল।
সামগ্রিক এই বিষয়গুলি নিয়ে শুভ নাগ এবং গোপাল সাহার শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। ইতিমধ্যে গণস্বাক্ষরের কাজ শুরু হয়েছে। গোপাল সাহার দাবি, তিনি কোথাও কোনও বেআইনি কাজ করেননি। বিজেপির কাউকে মারধর করেননি। এটাও মিথ্যা অভিযোগ।