কামারহাটির ‘ত্রাস’ গুড্ডুর বিরুদ্ধে ৫ কোটির মেশিন চুরির অভিযোগ
বর্তমান | ০৮ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: কামারহাটির ত্রাস আনিসুর রহমান ওরফে গুড্ডু ও তার দলবলের বিরুদ্ধে লুটপাট, খুনের হুমকি, তোলাবাজির মতো একের পর এক অভিযোগ দায়ের হচ্ছে কামারহাটি ও বেলঘরিয়া থানায়। শনিবার নতুন করে ফের দু’টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তাতে উদয় ভিলার কারখানা থেকে তোলাবাজি, পাঁচ কোটি টাকার মেশিন চুরি, দোকান লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।
কামারহাটির নীলরতন অধিকারী রোডে দীননাথ সাউয়ের দু’টি দোকান রয়েছে। ৬৫, নীলরতন অধিকারী রোডে ফাস্ট ফুডের দোকান রয়েছে। সামান্য এগিয়ে গেলে ওই রাস্তাতেই আছে ‘পতঞ্জলি স্টোর’। তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সালের ৩ মে গুড্ডু সশস্ত্র দলবল নিয়ে হাজির হয়। দু’টি দোকানের সাটার ভেঙে নগদ আড়াই লক্ষ টাকা লুট করে। ‘পতঞ্জলি স্টোর’ থেকে কয়েক লক্ষ টাকার সামগ্রী লুট করা হয়। ফাস্টফুডের দোকানের সমস্ত সামগ্রী ভাঙচুর করে ও লন্ডভন্ড করা হয়। হামলা থেকে স্টোভ ও গ্যাস সিলিন্ডারও রক্ষা পায়নি। দীননাথ সাউ ও তাঁর ছেলেকে খুনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। এতদিন আতঙ্কে থানায় অভিযোগ জানাতে পারেননি। শনিবার দীননাথবাবু কামারহাটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অন্যদিকে, বেলঘরিয়া থানায় গুড্ডুর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সন্দীপ কর। তাঁর বাড়ি বিরাটির ১২৭, এম বি রোডে। তাঁর অভিযোগ, উদয় ভিলা উইমেন্স কো-অপারেটিভের মধ্যে তার ‘ইয়েস মিতা ক্রিয়েশন’ নামে একটি ফ্যাক্টরি ছিল। সেই ফ্যাক্টরিতে নিয়মিত তোলাবাজি চালাত গুড্ডু। ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে তিনি ফ্যক্টরি বন্ধই করে দেন। এরপর গুড্ডু ওই কারখানার ভিতরে থাকা প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মেশিন চুরি করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কামারহাটিজুড়ে গুড্ডুর একছত্র রাজত্বে ব্যবসায়ী থেকে প্রোমোটার, ছোটো দোকানদার, সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। বি টি রোডের ধারে দোকান বিক্রি, বন্দুক হাতে সশস্ত্র বাহিনীর এলাকায় দাপাদাপি, তোলাবাজি চরম আকার নিয়েছিল। তার দাপটে কামারহাটির প্রাক্তন ‘বস’ আনোয়ার সহ বহু বাহুবলী গৃহবন্দি হয়ে গিয়েছিল। গুড্ডু শুধু গুন্ডাগিরি করত এমন নয়! শ্রমিক সংগঠনের মাথা হয়ে অটো-টোটোয় তোলাবাজি, বহু বেআইনি অটো গায়ের জোরে রুটে ঢোকানোর মতো বহু অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সরকার বদল হতেই সেসব অভিযোগের ‘প্যান্ডোরা বক্স’ খুলে গিয়েছে। কামারহাটির তৃণমূল নেতা তথা পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা বলেন, ‘যারা ওকে নেতা বানিয়েছে, তারাই ওর বিষয়ে বলতে পারবে। আমি কোনো মন্তব্য করব না।’