মেট্রোপলিটনের পার্টি অফিসও হাতছাড়া তৃণমূলের? পুলিশে যাবেন বাড়ির মালিক
বর্তমান | ০৮ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার বাইপাসের ধারে মেট্রোপলিটনে তৃণমূল কংগ্রেস ভবনও কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের হাতছাড়া হতে চলেছে? রবিবার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে অন্তত ইঙ্গিত তেমনই। কেন এই পরিস্থিতি? রাজ্যে পালাবদলের আগে পর্যন্ত তৃণমূলের প্রতিটি বড় ইভেন্টের ‘নেপথ্য কারিগর’ ছিলেন মন্টু সাহা। অস্থায়ী তৃণমূল পার্টি অফিসটি তাঁরই মালিকানাধীন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই মন্টুবাবু এখন তাঁর সম্পত্তি ফেরত পেতে মরিয়া! সময়মতো বাড়ি খালি না হওয়ায় এবার তিনি সোজা থানায় অভিযোগ জানাতে চলেছেন। অর্থাৎ, তৃণমূল পার্টি অফিস তুলে দিতে এবার আইনি পথ ধরতে চলেছেন তিনি।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে তপসিয়ার পুরানো তৃণমূল ভবন ভেঙে নতুন কার্যালয় তৈরির কাজ শুরু হয়। তখন সাময়িকভাবে পার্টি অফিস স্থানান্তরিত করতে হয়েছিল বাইপাসের ধারে মেট্রোপলিটনের এই বহুতলে। সেই বাড়িটির মালিক মন্টু সাহা। চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫-এই। মন্টুবাবু আগেই জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন আগে মেয়াদ ফুরালেও বাড়ি খালি করছে না দল। রবিবার সকালে ছেলে অমিত সাহাকে নিয়ে মেট্রোপলিটনের সেই অফিসেই গিয়েছিলেন মন্টুবাবু। জানা গিয়েছে, ভোটের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত দু’মাস সময় চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, সেই সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও বাড়িটি ছাড়ছে না তৃণমূল। এই অবস্থায় বাবা-ছেলে এদিন তৃণমূল ভবনেই চলে যান। তবে সেখানে গিয়েও কারও দেখা মেলেনি। উলটে নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের বাইরে গিয়ে বসার কথা বলেন। এমনকি, দলের কোনো নেতা ফোন তুলছেন না বলেও দাবি তাঁদের। কারও সঙ্গে কথা না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তাঁরা ফিরে আসেন। আজ, সোমবার থানায় অভিযোগ দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
এক সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠান হোক বা ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চ, মন্টু সাহার ‘মডার্ন ডেকরেটিং’ ছিল কার্যত অপরিহার্য। ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে যখন তৃণমূল ছিল, তখন এই বাড়িটি বিনা শর্তে দলের ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দল ক্ষমতা হারাতেই ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে যায়। মন্টুবাবু আইনি পথে গেলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।