হিন্দু-মুসলমানকে ১ কুইন্টাল মাছ ভাজা খাওয়ালো বিজেপি
বর্তমান | ০৮ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ইলিশ হোক বা চিংড়ি। কিংবা নিত্যদিনের রুই-কাতলা-মৃগেল। বাঙালি থাকে মাছে-ভাতেই। ভোট পরবের প্রচারে উঠে এসেছিল এই মাছ। বিজেপি এলে মাছ খেতে দেবে না, এমন প্রচার করেছিল তৃণমূল। বাঙালির হেঁসেলের সেই আঁচ যাতে ভোটে প্রভাব না ফেলে তার জন্য মাছ হাতে নিয়ে প্রচারে নেমেছিল বিজেপিও। ভোটে জয়ের শিরোপা পেয়েছে বিজেপি। তাই বাজার থেকে আসা কাঁচা মাছ নয়, রীতিমতো গরম গরম মাছ ভাজা খাওয়ানো হল বাঙালিকে। রবিবার রাজারহাটে সম্প্রীতি সমারোহের আয়োজন করেছিল বিজেপি। সেখানে হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের এক হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। দুই সম্প্রদায়ের মানুষকে একই পাতে বসিয়ে এক কুইন্টাল মাছ ভাজা খাইয়েছে বিজেপি। সঙ্গে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তাও দিয়েছেন রাজারহাট-নিউটাউনের বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া।
বিজেপির দাবি, তৃণমূল পরিকল্পনা করেই প্রচার করেছিল, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির মাছ খাওয়া বন্ধ করে দেবে। পালাবদলের পর প্রথম অফিশিয়াল মাছ যুক্ত হয়েছে মা ক্যান্টিনে। এবার উৎসবে মাছ। ঈদ পার হয়েছে। সামনে জামাইষষ্ঠী। সেই উপলক্ষ্যে রাজারহাটের রাইগাছিতে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। নাম দেওয়া হয়েছিল, ‘রাষ্ট্রীয় সম্প্রতি সমারোহ’। এই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন বিজেপির অমৃতা সিং। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজারহাট-নিউটাউনের বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া, রাজারহাট-গোপালপুরের বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি, বিজেপি নেতা রাকেশ সিং সহ অনেকেই। হিন্দু-মুসলমান সহ বাঙালিদের সঙ্গে অবাঙালিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সকলে মিলেমিশেই খাওয়া দাওয়া হয়।
খাওয়া-দাওয়ার জায়গার পাশেই উনুনে মাছ ভাজার জন্য মস্ত কড়াই বসানো হয়েছিল। ১০০ কেজি মাছ! আমন্ত্রিত নেতা-বিধায়করা মঞ্চে ওঠার পর তাঁদের হাতে কাঁচা মাছ দেখা গিয়েছিল। তাঁদের কেউ কেউ মাছ ভাজায় অংশও নেন। সম্প্রীতির পাতে নেতারা পরিবেশন করেন। ভাত, ডাল, তরকারির সঙ্গে গরম গরম মাছ ভাজা তুলে দেন তাঁরা। মঞ্চ থেকে বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া বলেন, ভোটব্যাংকের জন্য আগে আঞ্চলিক দলগুলি হিন্দু-মুসলমান করত। সকল ভাইকে এক হতে দিত না। আমি রাজারহাট-নিউটাউনে সংখ্যালঘুদের সাড়ে ৮ শতাংশ ভোট পেয়েছি। কে বলে সংখ্যালঘুরা আমাদের নয়? আমরা সবাই এক। উন্নয়ন সকলের জন্য হবে, একসঙ্গেই হবে।