বিরোধী শিবিরের লন্ডভন্ড অবস্থা। তামিলনাড়ুতে পরাজয়ের পরে জোট ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছে ডিএমকে। বাংলায় ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলেরও। জাতীয় রাজনীতিতে তাদের প্রাসঙ্গিকতাই এখন প্রশ্নের মুখে। এই আবহে আজ, সোমবার দুপুরে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠকে বসছে ইন্ডিয়া জোট। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের রূপরেখা ঠিক করার কথা রয়েছে সেখানে।
বিরোধী শিবিরে দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কংগ্রেস। তামিলনাড়ুতে নির্বাচনের পর কংগ্রেস-ডিএমকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন চাননি, কংগ্রেসের সমর্থনে টিভিকে সরকার গড়ুক। কিন্তু আদতে সেটাই হয়েছে। তার পরেই জোট ছাড়ার ঘোষণা করেছে ডিএমকে। এই বৈঠকেও জোট দিচ্ছে না তারা। এই ঘটনায় জোটের অন্য শরিক দলগুলিও উদ্বিগ্ন।
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের পরাজয়ের পরে জোটের সমীকরণও আমূল বদলে গিয়েছে। শরিক দলগুলির একাংশের আশা ছিল, কংগ্রেসের বাইরে আঞ্চলিক দলের কেউ জোটের মুখ হবেন। সে ক্ষেত্রে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ছিলেন প্রথম পছন্দ। কিন্তু এখন পরিস্থিতি এমন যে মমতারই কংগ্রেসের সমর্থন প্রয়োজন। সূত্রের খবর, বৈঠকে দলীয় কর্মীদের উপর হামলার বিষয় নিয়ে সরব হতে পারে তৃণমূল।
অরবিন্দ কেজরিওয়ালও জোট থেকে দূরত্ব তৈরি করেছেন। ইন্ডিয়ার বৈঠকে যোগ দিচ্ছে না তারাও। আম আদমি পার্টির নেত্রী প্রিয়াঙ্কা কক্কর বলেছেন, ‘কংগ্রেস দেশের কথা ভাবে না। অন্য দলের সঙ্গে জোট করার সময়ে শুধু নিজেদের স্বার্থ দেখে।’ সিপিএমও ক্ষুব্ধ। যদিও তারা বৈঠকে যোগ দেবে বলে জানিয়েছে। তবে কেরালার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সঙ্গে বিজেপির আঁতাতের অভিযোগ তোলায় সাংসদ রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে চিঠি দিয়েছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি।
মোট ২৩টি দল ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দেবে বলে জানিয়েছে কংগ্রেস। অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি এবং ফারুক আবদুল্লার জম্মু-কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্সও বৈঠকে উপস্থিত থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকার খুব শীঘ্রই ডিলিমিটেশন এবং মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল ফের সংসদে আনতে পারে বলে জল্পনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বাজেট অধিবেশনে বিরোধীরা সেই বিল পাসের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ফলে এ দিনের বৈঠকে এই বিষয়গুলি নিয়েও আলোচনা হতে পারে। তবে ইন্ডিয়া জোটকে এ দিন নিজেদের ঐক্য ও নেতৃত্বের প্রশ্নেই সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে হতে পারে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।