এই সময়, কীর্ণাহার: পারিবারিক বিবাদের কারণে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে খুন! অভিযোগ উঠল প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। শনিবার রাত আটটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের কীর্ণাহার থানার অন্তর্গত লডাঙা গ্রামে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের নাম শেখ মকসুদ (৪৯)। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, গ্রামের মসজিদে মৌলবি নিয়োগ করাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর সঙ্গে বছর খানেক ধরে মকসুদের বিবাদ চলছিল।
প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পেশায় কৃষক মকসুদের পচ্ছন্দের মৌলবিকে সাম্প্রতিক ইদের আগে মসজিদ থেকে ছাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ইদানীং সেই নিয়ে বিবাদ চরমে ওঠে। শনিবার রাতে মকসুদ যখন মসজিদে নমাজ পড়তে যাচ্ছিলেন তখন বেশ কয়েক জন তাঁর উপরে চড়াও হয়েছিলেন বলে অভিযোগ। চিৎকার শুনে ব্যক্তির পরিবারের লোকজন বাঁচাতে গেলে তাঁরাও আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ। এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কীর্ণাহার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। গুরুতর আহত অবস্থায় মকসুদ-সহ বাকিদের উদ্ধার করে বোলপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই মকসুদের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে এক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
নিহতের কাকা শেখ লাল বলেন, 'গ্রামেরই একদল লোক লাঠিসোঁটা, ধারালো অস্ত্র এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ভাইপোর উপরে চড়াও হয়।' চাচাতো ভাই শেখ আসাদুল্লার দাবি, 'আমরা বিজেপি করি। সেই আক্রোশে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা দাদাকে খুন করেছে।' যদিও বিজেপির প্রাক্তন সাংগঠনিক জেলা সভাপতি (বোলপুর) ও রাজ্য কমিটির সদস্য সন্ন্যাসীচরণ মণ্ডল বলেন, 'ওই গ্রামে আমাদের কোনও কর্মী নেই। ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নেই।'
তৃণমূলের স্থানীয় এক নেতা জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা কেউ তাঁদের দলের নয়। এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির যোগ নেই। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশেরও অনুমান, দু'টি পরিবারের বিবাদের জন্যই ওই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে। উত্তেজনা থাকায় গ্রামে পুলিশের টহল চলছে।