এই সময়, রঘুনাথপুর: ‘চোর অফিস’, ‘পিসি চোর’, ‘ভাইপো চোর’। বাংলা ও ইংরেজি হরফে রঘুনাথপুর শহর তৃণমূল কার্যালয়ের বাইরের দেওয়াল জুড়ে লেখা রয়েছে এমনই শব্দবন্ধ। এমনকী কার্যালয়ের সদর দরজার দু’পাশে আঁকা জোড়াফুল প্রতীকের উপরেও কাটাকুটির চিহ্ন দিয়ে পাশে লেখা হয়েছে ‘চোর টিএমসি’।
সদর দরজার উপরে বাইরের দিকে যেখানে ‘রঘুনাথপুর শহর তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়’ লেখা ছিল, সেই লেখার উপরেও কালো রং বুলিয়ে লিখে দেওয়া হয়েছে ‘চোর’ শব্দটি।
রঘুনাথপুরে তৃণমূলের এই কার্যালয়টি রয়েছে পুরুলিয়া-বরাকর রাস্তার পাশে এ টিম গ্রাউন্ডের কাছে। তার গায়ে কালো রঙে এ সব লেখা দেখে অনেকেই মুচকি হাসছেন। রাতের অন্ধকারে কে বা কারা এ সব লিখল, তা নিয়ে শহরে ফিসফাসও শুরু হয়েছে। বিষয়টি এখন চায়ের দোকান থেকে পাড়ার রকের আড্ডায় রীতিমতো চর্চায়।
মাস খানেক আগেও এই কার্যালয় রমরম করত। সেই কার্যালয়ে এখন ঝুলছে তালা। রবিবার এই কার্যালয়ের অদূরেই রঘুনাথপুর মহকুমা প্রেস ক্লাবের একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন মন্ত্রী নদিয়ারচাঁদ বাউরি এবং কাশীপুর ও রঘুনাথপুরের দুই বিজেপি বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদা ও মামণি বাউড়ি। তৃণমূলের কার্যালয়ের গায়ে লেখা এমন শব্দবন্ধ দেখে তাঁরা মুচকি হাসলেও কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
তবে বিজেপির রঘুনাথপুর শহর মণ্ডলের সভাপতি শান্তনু চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এটা ওদের বখরার লড়াই। নিশ্চয়ই কেউ কেউ ভাগ পায়নি। ভোট এসে গিয়েছিল। ভাবতে পারেনি, মানুষ এ ভাবে ওদের জবাব দেবে। যারা ভাগ পায়নি, তারাই হয়তো লিখেছে। এর সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই।’ তৃণমূলের তরফে এ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। রঘুনাথপুর শহর তৃণমূলের এক নেতা বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। তা ছাড়া এখন তো দলের কোনও কমিটিই নেই।’