বিশ্বদেব ভট্টাচার্য, আসানসোল
কিংবদন্তি সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতি বিজড়িত রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত ঘাটশিলা কলেজে বাংলায় স্নাতক স্তরে পড়া বন্ধ হয়ে গেল। ৫ জুন থেকে এই নিয়ম চালু হয়েছে।
আগেই মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বাংলা মাধ্যমে বোর্ডের পরীক্ষা দেওয়ার বিষয় উঠে গিয়েছিল। তার পরে এই সিদ্ধান্তে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ঝাড়খণ্ড বাংলাভাষী উন্নয়ন সমিতির রাজ্যের যুগ্ম সম্পাদক তাপস চট্টোপাধ্যায় এবং বঙ্গোৎসব সমিতির প্রধান পৃষ্ঠপোষক তথা বিভূতি স্মৃতিভবন ট্রাস্টির সভাপতি দেবীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সদস্যরা ঘাটশিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধানের হাতে বাংলা বিভাগ বন্ধ না–করে ছাত্রদের বাংলা পড়ানোর ব্যবস্থা পাকাপাকি করার দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেন।
এর পাশাপাশি ওই এলাকার ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার বিধায়ক সুমিতচন্দ্র সরেনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। খুব শিগগির রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপালের কাছে প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে বাংলা বিভাগ চালু করার দাবি জানাবেন। দেবীপ্রসাদের মন্তব্য, ‘শুধু ঘাটশিলায় ২৬ শতাংশ বাঙালি আছেন। রাজ্যে ৪২ শতাংশ। এই কলেজে কয়েক দিন আগেও পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান হয়েছে। একটা সময়ে এখানে বাংলায় স্নাতক স্তরে পড়ার জন্য আলাদা বিভাগ ছিল। আচমকা তা বন্ধ করা হলো। সিদ্ধান্ত না–বদলালে আরও বড় মাপের আন্দোলন হবে।’
মাইথনে দীর্ঘদিন ধরে বাংলা ভাষার প্রচার এবং প্রসার আন্দোলনের অন্যতম কর্মী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘নিরসা বিধানসভার মধ্যে একটিমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে, যেখানে কিছু বাংলাভাষী পড়ুয়া আছে। সব থেকে বড় সমস্যা, স্কুলগুলিতে বাংলা পড়ানোর যে পরিকাঠামো এবং শিক্ষক–শিক্ষিকার প্রয়োজন, সেটাই নেই। বাংলা বই বহুদিন ধরে পাওয়া যায় না, হিন্দি বা অন্য ভাষার বই সরকার দেয়। বাংলায় তেমন কিছু নেই। ফলে পড়ুয়ার অভাব তৈরি হচ্ছে।’
বাংলা–ঝাড়খণ্ড লাগোয়া নিরসার বিধায়ক অরূপ চট্টোপাধ্যায় বলছেন, ‘কয়েক দিন আগে বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কথা হয়েছে। শুধুমাত্র ১২টি এমন বিধানসভা আছে, যেখানে প্রচুর বাঙালি ভোটার রয়েছেন। রাজ্যেও প্রায় ৪২ শতাংশ বাংলাভাষী মানুষ আছেন। এখানে একদিকে বাংলা বই না–পাওয়া, অন্য দিকে পর্যাপ্ত শিক্ষক–শিক্ষিকার অভাবে বাংলা পড়ার প্রতি আগ্রহ দ্রুত কমছে। ফলে যে স্কুলগুলিতে আগে বাংলার চর্চা ছিল, সেগুলিও বন্ধ হয়ে গিয়েছে বা বন্ধ হওয়ার মুখে।’ তিনি জানিয়েছেন, ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় একটি বাংলা অ্যাকাডেমি তৈরি করার ভাবনা রয়েছে। এমনএকটা প্রতিষ্ঠান তৈরি হলে বাংলা নিয়ে আবার নতুন ভাবে আগ্রহ তৈরি হবে।