এই সময়: কলকাতা–সহ দক্ষিণবঙ্গে প্রাক–বর্ষার বৃষ্টি নিয়ে হাওয়া অফিস যে পূর্বাভাস দিয়েছিল, শুক্রবার ও শনিবারের পরে রবিবারও তা মিলিয়ে দিয়ে বৃষ্টি হলো। এ দিন বিকেলে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আর নদিয়ার কিছুটা অংশও বৃষ্টি পেয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০–৫০ কিলোমিটার গতিতে বয়ে যাওয়া দমকা হাওয়ার প্রভাবে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিও কেটেছে। তবে কলকাতা ও আশপাশের এলাকার কিছু জায়গায় রাস্তায় গাছ পড়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার, ৪ জুন আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছিল, আগামী বৃহস্পতিবার, ১১ জুন পর্যন্ত কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় প্রাক–বর্ষার বৃষ্টি হবে।
গোড়ায় কয়েকটা দিন দেরি করে ফেললেও এখন সেটা মেকআপ করার চেষ্টা চালাচ্ছে দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বাতাস। ১ জুনের পরিবর্তে এ বছর কেরালায় বর্ষার বাতাস ঢুকেছে ৪ জুন। কিন্তু মহারাষ্ট্রে বর্ষাকাল শুরু হতে দেরি হয়নি। নির্ধারিত ৭ জুনেই সে রাজ্যের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। মৌসম ভবন জানিয়েছে, রবিবার মৌসুমি বায়ু আরও এগিয়ে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের কিছুটা অংশ, গোটা উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের আরও কিছুটা অংশ পার করেছে। তা ছাড়া, গোটা নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম এবং ত্রিপুরা ছেয়ে ফেলে মৌসুমি বায়ু ঢুকে পড়েছে অসম ও অরুণাচল প্রদেশের কিছুটা অংশেও।
আবহবিদরা মনে করছেন, আগামী তিন–চার দিনের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আরও অগ্রগতির মতো অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আগামী ওই কয়েক দিনে মৌসুমি বায়ু মহারাষ্ট্র ও কর্নাটকের বিস্তীর্ণ অঞ্চল, তেলঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশের কিছুটা অংশ, প্রায় গোটা তামিলনাড়ু, ছত্তিসগড় ও ওডিশার কিছুটা অংশ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের যে টুকু অংশ বাকি আছে, সেখানে প্রবেশ করতে চলেছে। আবহবিদরা জানাচ্ছেন, বর্ষার বাতাস তার এই গতি ধরে রাখতে পারলে আগামী তিন–চার দিনে উত্তরবঙ্গ ও সিকিমেও আনুষ্ঠানিক ভাবে বর্ষাকাল শুরু হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।
বাংলায় এখনও জলীয় বাষ্পে পরিপূর্ণ দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বায়ু না–ঢুকলেও আলিপুর হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস মতো প্রাক–বর্ষার বৃষ্টি পাচ্ছে কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ এবং পুরুলিয়া থেকে পলাশি— রাজ্যের প্রায় সব অংশই। উত্তরপ্রদেশের উপর তৈরি একটি ঘূর্ণাবর্ত বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প টেনে চলেছে। তার প্রভাবেই রাজ্যের সর্বত্র বৃষ্টির উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে আবহবিদরা জানিয়েছেন। অতি অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন জায়গার আকাশে ঘন মেঘের স্তম্ভ তৈরি হচ্ছে এবং সেখান থেকে শুরু হচ্ছে বজ্রবিদ্যুৎ–সহ বৃষ্টি। এর সঙ্গী হচ্ছে ঘণ্টায় ৪০–৫০ কিলোমিটার গতির দমকা হাওয়া।
জুনের শুরুতে কলকাতা–সহ দক্ষিণবঙ্গে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের প্রভাবে এবং বৃষ্টির অভাবে যে দমবন্ধ করা পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, শুক্রবার প্রাক–বর্ষার বৃষ্টি শুরু হওয়ার পরে সেই পরিস্থিতি অনেকটাই কেটে গিয়েছে। রবিবারও দমকা হাওয়া ও বৃষ্টির কল্যাণে বহাল থাকল স্বস্তির আবহাওয়া।