• ‘সম্পূর্ণ অন্ধকারেই...’, একঝাঁক অভিযোগ পিয়ার বিরুদ্ধে, কী বললেন EIMPA-র প্রোডিউসার সেকশনের চেয়ারম্যান ঋতব্রত
    এই সময় | ০৮ জুন ২০২৬
  • ২০২৫ সালে তৈরি হওয়া ছবি ‘দ্য অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’। যে সিনেমাটি পরিচালনা করেছিলেন ‘সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউট’-এর ছাত্র, জয়ব্রত দাস। ছবি মুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমেই বেগ পেতে হয়েছিল জয়ব্রতদের। ফেডারেশনের যুক্তি অনুযায়ী, কোনও ফিল্ম ইনস্টিটিউটের পড়ুয়ারা যদি প্রযোজকের সাহায্য নিয়ে ছবি বানান, তবে সেটা স্বতন্ত্র ছবি হিসেবে ধরা হবে না। তাই প্রযোজকদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে ওঠে বেশ কিছু প্রশ্ন। পরবর্তীকালে বেশ কিছু বাধা পেরিয়ে ছবি মুক্তি পায় গুটিকয়েক হলে। তা-ও খুব অল্প সময়েই সরিয়ে নেওয়া হয়।

    রাজ্যের পালাবদলের পরে ইমপার প্রেসিডেন্ট পদের পরিবর্তন ও পরবর্তীকালে স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেপ্তারির পরে ‘অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ নিয়ে আরও বেশ কিছু বিষয় প্রকাশ্যে আসে। সিনে পরিবেশক শতদীপ সাহার দাবি, ছবি মুক্তিতে শুধু ফেডারেশন নয়, বাধা দিয়েছিলেন তৎকালীন EIMPA-র প্রেসিডেন্ট পিয়া সেনগুপ্তও। শুধু তাই নয়, ১২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে শর্তসাপেক্ষে প্রেক্ষাগৃহের আলো দেখেছিল এই ছবি বলে অভিযোগ শতদীপের।

    EIMPA-র বিরুদ্ধে যখন এহেন অভিযোগ, তখন ‘এই সময় অনলাইন’-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল ইস্টার্ন ইন্ডিয়ান মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রোডিউসার সেকশনের চেয়ারম্যান ঋতব্রত ভট্টাচার্যের সঙ্গে। এই ধরনের ঘটনা প্রসঙ্গে কতটা অবগত ছিলেন ঋতব্রত? তাঁর কথায়, ‘প্রোডিউসার সেকশনের চেয়ারম্যান হিসাবে আমি বলতে পারি, ‘অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’ নিয়ে আমাদের কোনও রকম আলোচনা হয়নি কখনও। ফলে কিছুই জানতাম না। যখন সাংবাদিক সম্মেলন হয়েছিল তখন আর সকলের মতোই আমিও শুনেছি। বাকিটা সম্পূর্ণই অন্ধকারে। মেল বা চিঠির মাধ্যমেও কিছু জানানো হয়নি। যদি কোনও অভিযোগ আমি পর্যন্ত না এসে থাকে, আমি জানব কী করে?’

    কোন ছবি কোন হল-এ মুক্তি পাবে, কোন সিনেমাই বা ‘ব্যান’ হলো সেই ব্যাপারে কোনও তথ্য ছিল না তাঁর কাছে। প্রেসিডেন্ট তাঁকে কিছুই জানাননি বলেও দাবি ঋতব্রতর। তাঁর কথায়, ‘এটা নিয়ে কোনও মিটিংও হয়নি কখনও। প্রেসিডেন্টও কিছু বলেননি। যে অ্যাজেন্ডাগুলো রাখা হয়েছে সেগুলোর মধ্যেও এমন কোনও বিষয় কখনও ওঠেনি। তবে EIMPA-তে যে নিয়ম রয়েছে, তাতে কোনও একটা বিষয়ে প্রেসিডেন্ট যদি মনে করেন একা কথা বলতেই পারেন। কিন্তু সাধারণ নিয়ম হলো আমাদের অ্যাজেন্ডায় যে বিষয়ে আলোচনা হয়, EC মিটিংয়ে সেটাকেই অফিশিয়াল হিসেবে ধরা হয়। অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসের ক্ষেত্রে সরকারি ভাবে এই ধরনের কোনও আলোচনা কখনও হয়নি।’

    ঋতব্রতর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সিনে পরিবেশক শতদীপ সাহা বলেন, ‘একজন এইরকম পদে থাকা মানুষ, যে কি না বলছেন কিছুই জানতেন না। একটা সিনেমা ব্যান হয়ে গেল, অথচ তিনি জানতেনই না। তার মানে তাঁর কোনও কথা বলা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ারই অধিকার ছিল না বলেই ধরে নেব।’

    যদিও ঋতব্রতর বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন শতদীপ। তাঁর কথায়, ‘ঋতব্রত ভট্টাচার্য একদম ঠিক কথা বলেছেন। যেটা হচ্ছিল এত বছর, সেটা হলো ফেডারেশনের হেড স্বরূপ বিশ্বাস ও EIMPA-র প্রেসিডেন্ট পিয়া সেনগুপ্ত মিলে পুরো ইন্ডাস্ট্রি চালানোর চেষ্টা করছিলেন। স্বরূপের কাছ থেকে মেল আসত EIMPA-য়। এবং পিয়ার কাজ হলো ছবি ব্যান করে দেওয়া। এটা শুধু ‘অ্যাকাডেমি...’র ক্ষেত্রে নয়, বহু সিনেমা মুক্তি ও শুটিংয়ের ক্ষেত্রেও টাকা নেওয়া হয়েছে। নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া করে। ওদের কমিটির অনেকেই বিষয়টা জানতেন না। বাইরে বেরিয়ে গেলে সকলে জেনে যাবে। তাই কয়েকজনের মধ্যেই রাখা হতো। এর থেকে স্পষ্ট পিয়া সেনগুপ্ত ও স্বরূপ বিশ্বাস মিলে ফেডারেশনের মতো করেই EIMPA চালাচ্ছিলেন।’
  • Link to this news (এই সময়)