• ইন্ডাস্ট্রিতে আমাকে কখনও সমস্যায় পড়তে হয়নি: অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়
    এই সময় | ০৮ জুন ২০২৬
  • তিনি নেত্রী, আবার অভিনেত্রীও। কলকাতা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার। ১২ নম্বর বরোর অধীনে ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিগত শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি। পাশাপাশি অরূপ বিশ্বাসের শিবিরের সঙ্গে তাঁর বিশেষ ‘সখ্য’ রয়েছে বলেও শোনা যায়। একই ফ্রেমে বহু ছবি ছাড়াও, অতীতের নানা ঘটনায় দু’জনের ‘সদ্ভাব’-এর নির্দশন এখনও সোশ্যাল মিডিয়া খুঁজলে পাওয়া যাবে। পাশাপাশি, অভিনয় করার সুবাদে অনন্যা টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিরও সদস্য। গত বৃহস্পতিবার নিউ আলিপুর থানার হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন অরূপের সহোদর ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্‌স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া-র প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি-সহ একাধিক মামলা রুজু হয়েছে নিউ আলিপুর থানায়। স্বরূপের গ্রেপ্তারিতে অভিনেতা, টেকনিশিয়ান-সহ বিভিন্ন গিল্ডের বহু সদস্য স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। এই ঘটনাকে কী ভাবে দেখছেন অভিনেত্রী অনন্যা? এই সময় অনলাইনের কাছে শনিবার মুখ খুললেন অনন্যা।

    স্বরূপের গ্রেপ্তারির বিষয়টিকে খুশি কিংবা অখুশির পর্যায়ে ফেলতে চান না তিনি। বরং তিনি ন্যায় এবং অন্যায়ের মানদণ্ডে ঘটনাকে দেখতে চান। অনন্যা বললেন, ‘গ্রেপ্তার করায় ভালো হলো নাকি ভুল হলো, সেটা বড় বিষয় নয়। বরং ন্যায় নাকি অন্যায়, কার সঙ্গে আছি, সেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি বলব কোনও ব্যক্তি নয়, অন্যায়ের প্রবণতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। সিস্টেমটা বদল করতে হবে। তা না হলে আবারও জার্সি বদল হবে, নাম বদল হবে, কিন্তু পরিস্থিতি বদলাবে না।’

    টালিগঞ্জকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার বার্তা দিয়েছে নতুন সরকার। নব নির্বাচিত চার বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী এবং হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের কাঁধে সেই দায়িত্ব অর্পণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘শুদ্ধিকরণ’-এর সেই কাজ ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছেন তাঁরা। আর এই প্রসঙ্গেই নিজের ভাবনা স্পষ্ট করলেন অনন্যা। তাঁর কথায়, ‘অনেকেই বলছেন, টালিগঞ্জে যেন রাজনীতিকরণ না হয়। আমিও সেটার পক্ষেই। কিন্তু বাস্তবে কি সেটা সম্ভব? আমরা প্রত্যেকেই কোনও না কোনও মতাদর্শের সমর্থক। সক্রিয় রাজনীতিতে কেউ অংশগ্রহণ না করলেও, গণতান্ত্রিক অধিকার আমরা সকলেই প্রয়োগ করি। রাজনীতি থেকে দূরে থাকার কথা শুনতে খুব ভালোলাগে। তবে সেটা বলে দেওয়া যতটা সহজ, বাস্তবে সেটা করে দেখানো সহজ নয়।’

    নতুন সরকারের কাছে তাঁর আর্জি, ক্ষমতার জোরে যেন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পাওয়ার প্রবণতা না থাকে। অনন্যার অনুরোধ, ‘প্রতিভার যাচাই করেই যেন সকলকে সুযোগ দেওয়া হয়। বাকিটা তো সময় বলবে।’ প্রসঙ্গত এই সময়কে রুদ্রনীল ঘোষ একটি সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি বলেছেন, ‘কোনও কিছুই রাজনীতির বাইরে নয়। তবে রাজনৈতিক আধিপত্যমুক্ত থাকা জরুরি।’ পাপিয়াও ইন্ডাস্ট্রিকে রাজনীতিকরণের বাইরে রাখার কথাই বলেছেন।

    দীর্ঘ দিন ধরেই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে স্বরূপকে নিয়ে চাপা অসন্তোষ জমা হয়েছে। স্বরূপ গ্রেপ্তার হতেই অভিনেতা এবং বিভিন্ন গিল্ডের অনেক সদস্য মুখ খুলেছেন। তাঁদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। স্বরূপের নেতৃত্বে ইন্ডাস্ট্রিতে এই অরাজকতা এবং স্বৈরাচারের কথা কি অনন্যার কানে গিয়েছিল? তিনি কি কোনও আভাস পেয়েছিলেন? অনন্যার ব্যাখ্যা, ‘সত্যি কথা বলতে, আমাকে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি। তবে তার মানে এই নয় যে, কাজ না পাওয়া এবং আরও যা-যা অভিযোগ উঠেছে, সেগুলি মিথ্যে। আমি ফেডারেশন কিংবা ইম্পার কোনও সংগঠনে যুক্ত ছিলাম না। আমি শুধু বিগত সরকারের হয়ে কাজ করেছি। আমি আর্টিস্ট ফোরামের একজন সাধারণ সদস্য। তবে এখন যে অভিযোগ উঠছে, সেগুলো আমাকে কেউ কখনও বলেনি কিংবা কারও হয়ে তদ্বির করতেও যায়নি। ফলে আদতে কী ঘটেছে, সেটা বলতে পারব না।’

    বেশ অনেক দিন হলো পর্দা থেকে দূরে অনন্যা। সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত 'লহ গৌরাঙ্গের নাম রে' ছবিতে শেষবার দেখা গিয়েছে তাঁকে। এ বার কি চুটিয়ে অভিনয় করবেন অনন্যা? উত্তরে তিনি বলেন, 'যদি সত্যিই আমি ধারাবাহিক ভাবে অভিনয়ের সুযোগ পাই, তা হলে বুঝব সরকার তাদের কথা রেখেছে।'
  • Link to this news (এই সময়)