অন্য সময় প্রাইম: ‘ব্রাউন’ সিরিজ়ে করিশ্মা কাপুরের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করার অভিজ্ঞতা কেমন?
যিশু: করিশ্মা ভীষণ মিষ্টি আর নম্র একজন মানুষ। শুটিংয়ের সময়ে সেই গোবিন্দ বা ডেভিড ধাওয়ানের আমলের নস্ট্যালজিয়াগুলো মনে পড়ছিল। তবে একটা কথা জোর দিয়ে বলতে পারি— হিন্দি জ়ি ফাইভ-এর ‘ব্রাউন’-এ দর্শক এমন এক করিশ্মা কাপুরকে দেখতে পাবেন, যা আগে কেউ কোনও দিন দেখেননি। জাস্ট চোখ ধাঁধিয়ে যাবে সবার!
অন্য সময় প্রাইম: একের পর এক কাজ, সাফল্য— এর মধ্যেও শান্ত থাকেন কী ভাবে?
যিশু: সত্যি বলতে, এই প্রশ্নটা আমাকে এর আগে কেউ কোনও দিন করেনি। আমার মনে হয় না এটা কোনও থেরাপি বা প্র্যাকটিসের বিষয়। আসলে এই শিক্ষাটা পড়াশোনা করে হয় না। এটা পুরোপুরি বাবা-মায়ের কাছ থেকে পাওয়া। আমি বরাবরই খুব চমৎকার কিছু মানুষের সান্নিধ্যে থেকেছি। তাই এই প্রশংসাটা আসলে আমার চারপাশের মানুষদের প্রাপ্য।
অন্য সময় প্রাইম: মানসিক অবসাদ আপনি কী ভাবে হ্যান্ডেল করেন?
যিশু: আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি অ্যাংজ়াইটি বা ডিপ্রেশন মানুষের জীবনে আসতেই পারে, এটা খুব স্বাভাবিক। আর এই বিষয়ে কথা বলাটা ভীষণ জরুরি। আমি খুব সোজাসাপ্টা কথা বলতে ভালোবাসি। জীবনে অবসাদ এসেছে। আমি নিজেও কাউন্সেলিং করিয়েছি। মনোবিদের কাছে গিয়েছি। এটা নিয়ে লজ্জার কিছু নেই। আমরা যে ধরনের জীবনযাত্রার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, সেখানে নিজেকে ঠিক রাখাটাই সবচেয়ে ডিফিকাল্ট কাজ। তার উপর এখনকার সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব। আজকাল কোথাও যেন পার্সোনাল স্পেসের বাউন্ডারিটা গুলিয়ে যাচ্ছে। গত দশ বছরে চারপাশের পরিস্থিতি বড্ড বেশি বদলে গিয়েছে।
অন্য সময় প্রাইম: আজকের যিশু সেনগুপ্ত কি অনেক বেশি সাবধানী? অনেক বেশি মেপে কথা বলেন?
যিশু: তা নয়। আমি খুব হিসেব করে কথা বলি না। আমার যেটা মনে হয়, আমি সরাসরি বলে দিই। আমি চাইলে তো এই মনোবিদের কাছে যাওয়ার কথাটা লুকিয়ে রাখতে পারতাম। আমি তো একজন স্টার, একজন অভিনেতা— আমার এই দুর্বলতা প্রকাশ না করলেও চলত। কিন্তু আমি মনে করি, দিনের শেষে আমিও একজন মানুষ। আমাদের এই সমাজটায় কেউ পুরোপুরি সাদা বা কালো নয়, সবাই গ্রে। আমরা প্রত্যেকেই দিনের শেষে আয়নার সামনে দাঁড়াই, ক্রিম লাগানোর সময়ে হলেও অন্তত একবার নিজেকে দেখি। তখন তো নিজের ভুলত্রুটিগুলো বা ভালো কাজগুলো নিজের মনের ভেতর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আসল সমস্যাটা হলো আমরা নিজেদের ভালো করে চিনিই না। আমরা সবাই কোনও না কোনও অভিনয় করে যাচ্ছি। নিজেকে ভালো না বাসলে, নিজে আনন্দে না থাকলে, প্রিয় মানুষদের ভালো রাখবেন কী ভাবে? এটা কোনও স্বার্থপরতা নয়, এটা বেঁচে থাকার রসদ।
অন্য সময় প্রাইম: সমাজমাধ্যম বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ট্রোলিং কি আপনাকে আর ভাবায়?
যিশু: খারাপ লাগে। তবে হ্যাঁ, খারাপ লাগার সময়সীমাটা এখন অনেক কমে গিয়েছে। আগে হয়তো কোনও ট্রোলে দুই-তিন দিন মন খারাপ থাকত, এখন সেটা কমে কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক সেকেন্ডে এসে ঠেকেছে। মাঝে-মাঝে প্রতিবাদ করতে ইচ্ছে করে, কিন্তু তার পর ভাবি— কী লাভ? কিছুদিন আগে, আমি নাকি আবার বাবা হতে চলেছি— এমন একটা হেডলাইন দেখেছিলাম। দু’বছর কেটে গেল, কই কিছুই তো হলো না! (হাসি) আবার এই ফেক নিউজ়ের চক্করে পড়ে কোনও-কোনও মানুষ মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে হাসপাতালে পর্যন্ত ভর্তি হয়ে যান। তার দায়িত্ব কে নেবে? মিডিয়া বা সোশ্যাল মিডিয়ার কোথাও একটা লক্ষ্মণরেখা থাকা দরকার।
অন্য সময় প্রাইম: বলিউড আর টলিউডের মধ্যে এই জায়গায় কোনও ফারাক পান?
যিশু: মুম্বইয়ে কেউ কিন্তু এই বাউন্ডারিটা ক্রস করে না। ওরা পার্সোনাল স্পেসকে সম্মান দিতে জানে, ব্যক্তিগত প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকে। কিন্তু আমাদের এখানে একটু চেনা জানা হলেই কাঁধে হাত দিয়ে ‘কেমন আছিস’ বলাটা খুব সহজ। কাজের জায়গায় কাজের সম্মানটা দেওয়া খুব প্রয়োজন।
অন্য সময় প্রাইম: বর্তমান রাজ্য রাজনীতি পালা বদলের পর সরকারের থেকে কোনও নির্দিষ্ট এক্সপেক্টেশন আছে?
যিশু: না, তেমন ভাবে কিছু প্রত্যাশা রয়েছে বলতে পারি না। আগের সরকারের থেকেও তেমন কোনও এক্সপেক্টেশন ছিল না। শুধু একটা কথাই মনে হয় শিল্পীদের শিল্পীর মতো করে থাকতে দিলেই বোধহয় ভালো হয়।