• ‘এখন ক’দিন ‘জানেন আমি কে?’ নাই বা বললেন...’, প্রাক্তন সরকার ঘনিষ্ঠদের কী পরামর্শ সুদীপার
    এই সময় | ০৮ জুন ২০২৬
  • রাজ্যে পালাবদলের পরে রাজনৈতিক নেতৃত্বদের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি যে ইন্ডাস্ট্রি চর্চায় তা হলো টলিউড। কখনও চর্চায় তৎকালীন শাসকদল ঘনিষ্ঠ একাংশ। কখনও আবার তাদেরই কারও কারও কর্মকাণ্ড। ‘আমি অমুকের লোক’ কথাটাও নাকি বহুল প্রচলিত ছিল ইন্ডাস্ট্রির একাংশের মুখে। ফলে ‘পরিবর্তন’ যে তাদের বিপদের কারণ, এ কথা বলাই যায়। অভিনেত্রী তথা সঞ্চালক সুদীপা চট্টোপাধ্যায় তুলে ধরলেন তাঁর বেশ কিছু অভিজ্ঞতা।

    কে কাজ পাবে, কাকে ‘ব্যান’ করা হবে এই সবটাই টলিউডে এত দিন চলত ‘বিশ্বাস’ ব্রাদার্সের নির্দেশে। ফলে তৎকালীন ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেপ্তারির পরে তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের অনেকের কপালেই চিন্তার ভাঁজ। তাই তাদের উদ্দেশে সুদীপা লিখলেন, ‘রোজ, রোজ মুখে মুখোশ পরতে পরতে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা কি মাঝেমাঝে দুটোর ফারাকটাও বুঝতে পারেন না? এই ক’দিন আগে ভাইফোঁটার কিংবা স্বরূপবাবুর পিছনে হাঁটার কোনও একটা মুহূর্তেও, কিংবা বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীকে নিমন্ত্রণ করে ডেকে এনে, পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সময়ও কারও কি মনে হয়েছে, এঁদের কেউ মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে এসব করতে বাধ্য করেছেন?’

    যারা ‘বিশ্বাস’ বৃত্ত ঘনিষ্ঠ, তাদের গর্বে আর অহংকারে এতদিন মাটিতে পা পড়তো না একটা সময়ে বলে মনে করেন সুদীপা। তাই এখন তাদের একটু ক’দিন চুপ করে থাকার অনুরোধ করলেন অভিনেত্রী। বললেন, ‘সব সময় লাইমলাইট পেতেই হবে, এমন বাধ্যবাধকতা তো নেই? কাজ করুন মন দিয়ে। রাস্তায় পুলিশ গাড়ি আটকালে, এখন ক’দিন নাই বা বললেন, জানেন আমি কে?’

    সুরুচি সংঘ, চেতলা অগ্রণীর পুজোয় প্রতি বছর ডাক পেতেন সুদীপাও। তবে তাঁর বাড়িতে পুজো হওয়ায় কোনও বছরই যেতে পারেননি। তাঁর কথায়, ‘কই, আমার মাথার উপর তো কোনও খাঁড়া নেমে আসেনি? কাজ চলে যাওয়ার পরেও কখনও অভিযোগ করিনি যে আমি দলের প্রচারে যাই না বলে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এরকম কিছু হয় না। শুনে রাখুন, এটা একমাত্র এমন একটা ইন্ডাস্ট্রি, যেখানে কাউকে কোনও কিছু করতে বাধ্য করা হয় না। নিজেরাই সুবিধা নিতে যান। ক্ষমতার অলিন্দে ঘুরঘুর করতে ভালোবাসেন।’

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে সুদীপা লেখেন, ‘আমায় খুবই স্নেহ করতেন। আজও করেন। ববিদার সঙ্গে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক। সুব্রত মুখোপাধ্যায়, আমাদের অভিভাবকের মতো ছিলেন। কই, তাঁরা কেউ একবারের জন্যও আমায় দলের প্রচারে কিংবা কোনও মিছিলে ডাকেননি? কেন বলুন তো? কারণ, জানতেন বাড়িতে পুজোর ভোগ খেতে আমি যেতে পারি, কিন্তু প্রচারে আমি যাব না।’

    টাকার প্রয়োজন যেমন ছিল, তেমনই পুরস্কার পেতেও ইচ্ছে হতো তাঁর। তবু এ সব থেকে দূরে থাকাই শ্রেয় বলে মনে করেছেন বলে দাবি সুদীপার। তাই ক্ষমতার এত কাছে থাকা মানুষদের এখন একটু চুপ থাকতে বললেন সুদীপা। বললেন, ‘এ বার খুব অসহ্য লাগছে। আমরা যারা দূরে থেকেছি, তারা মুখ খুললে কিন্তু বাকি পাবলিক ইমেজটাও ধুয়ে যাবে।’

    পরিবর্তে রাজনীতির অলিন্দ থেকে যাঁরা এখন কয়েকদিন দূরে, তাদের জমানো টাকায় কোথাও ঘুরে আসার পরামর্শ দিলেন সুদীপা। বললেন, ‘পাবলিকের মেমরি খুব খারাপ। ক’দিন বাদেই ভুলে যাবে। তার পরে আবার নতুন জোশ নিয়ে আসরে নেমে পড়ুন। আগে থেকে খোঁজ নিন, সজল ঘোষের পুজোয় ঢাক বাজাতে কিংবা ধুনুচি নাচে, কী ভাবে ডাক পাওয়া যাবে। এ বার কিন্তু ওখানেই বেশি মাইলেজ। আর ওরা খেলায় না নিলে, নস্ট্যালজ়িয়া সমেত ম্যাডক্স স্কোয়ার চলে যান। একটা বছর না হয় নিজের পাড়ায় সিঁদুর খেলবেন।’
  • Link to this news (এই সময়)