পাটনার ফয়জাল খান ওরফে খান স্যরকে কি সোমবারই গ্রেপ্তার করবে পুলিশ? নাকি তিনি আজই আইনজীবীর মাধ্যমে পাটনার আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানাবেন? এই দুই প্রশ্নকে ঘিরে এ দিন সকাল থেকেই প্রবল জল্পনা বিহারের রাজধানীতে।
পুলিশ জানিয়েছে, পাটনার মুসাল্লাপুরায় কোচিং সেন্টারের (খান গ্লোবাল স্টাডিজ) সামনে গত ২ জুন রাতে শুট আউট ও হামলায় ঘটনায় নাম জড়িয়েছে ফয়জাল খান ওরফে খান স্যরের। তাঁর বিরুদ্ধে কদমকুঁয়া থানায় খুনের চেষ্টা ও বেআইনি অস্ত্র রাখার অভিযোগে FIR দায়ের হয়েছে।
সূত্রের খবর, হামলা ও শুট আউটের পরে খান স্যর দাবি করেছিলেন, তিনি কম টাকা নিয়ে পড়ুয়াদের প্রশিক্ষণ দেন। ব্যবসায়িক আক্রোশ থেকেই তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং সেন্টারের লোকজন হামলা করেছে।
প্রাথমিক ভাবে খান স্যর পুলিশে অভিযোগ জানিয়ে বলেন, ওই দিন রাতে বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁর কোচিং সেন্টারের সামনে ৮-১০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তারা কোচিং সেন্টারের নিরাপত্তা রক্ষীকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। ইট, পাথরও ছোড়ে কোচিং সেন্টার লক্ষ্য করে। খান স্যর ওই রাতেই তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী 'জ্ঞানবিন্দু কোচিং' সেন্টারের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে হামলা ও গুলি ছোড়ার অভিযোগে এইআইআর দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে ওই কোচিং সেন্টারের ডিরেক্টর রোশন আনন্দ এবং তাঁর দুই সঙ্গী অভিষেক ও গৌরবকে গ্রেপ্তার করে কদমকুঁয়া থানার পুলিশ। পরের দিন তিনজনকে আদালতে হাজির করায় পুলিশ। তাঁরা এখন পাটনার বেউর জেলে রয়েছেন।
ঘটনার মোড় ঘোরে ৪ জুন তারিখে। ওই দিন একটি ভিডিয়ো ফুটেজ ভাইরাল হয় (তার সত্যতা যাচাই করেনি এই সময় অনলাইন)। তাতে দেখা যায়, ২ জুন রাতে খান স্যরের কোচিং সেন্টারের দুই নিরাপত্তা রক্ষী বন্দুক থেকে গুলি ছুড়ছে। ভিডিয়ো ফুটেজ দেখে পুলিশ ওই দুই নিরাপত্তা রক্ষীকে থানায় তুলে নিয়ে যায় এবং কমবেশি তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পরে তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে খান স্যরকেও। তদন্তে নেমে পুলিশ দুই নিরাপত্তা রক্ষীর ব্যবহৃত বন্দুক বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠায়। ওই আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে কি না, তা যাচাই করার প্রক্রিয়াও শুরু করে। পুলিশ নতুন করে আলাদা একটি এফআইআর দায়ের করে। তাতে অভিযুক্ত করা হয় খান স্যরকে।
পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, হামলা ও শুট আউটের পরে খান স্যর একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিলেন, কোচিং সেন্টারের সামনে ধস্তাধস্তি হচ্ছিল। তিনি জানতেন, পুলিশের সেখানে পৌঁছতে দেরি হবে। তাই তাঁরা আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়েছিলেন। তবে নিরাপত্তা রক্ষীরা কাউকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েননি বলেও দাবি করেছিলেন খান স্যর।
এ দিকে, খান স্যারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ার পরে হাজার পাঁচেক পড়ুয়া জ্ঞানবিন্দু কোচিংয়ের ডিরেক্টর রোশন আনন্দের মুক্তির দাবিতে কয়েকদিন আগে রাস্তায় নামেন। একই সঙ্গে তাঁরা খান স্যরের গ্রেপ্তারের দাবিও তোলেন এবং পাটনার কার্গিল চকে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান।
এই পরিস্থিতিতে আজ, সোমবার খান স্যর পাটনার আদালতে তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে আগাম জামিনের আবেদন জানাতে পারেন বলে একটি সূত্রের খবর। পুলিশের একটি সূত্র এও দাবি করেছেন, খান স্যরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
আজ পাটনার আদালতে জ্ঞানবিন্দু কোচিং সেন্টারের ডিরেক্টর রোশন ও তাঁর দুই সঙ্গীরও জামিনের আবেদনের শুনানি রয়েছে। আদালতে জামিনের আবেদন জানিয়েছেন খান স্যরের কোচিং সেন্টারের দুই নিরাপত্তা রক্ষীও। তাঁদের আবেদনেরও আজ শুনানি হওয়ার কথা।
সব মিলিয়ে পাটনা আদালতের দিকেই নজর সকলের।