মধ্যরাতে রণক্ষেত্র যাদবপুর। হকার উচ্ছেদকে আটকাতে জড়ো হওয়া জনতা, সিপিএম-কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের উপর বেপরোয়া লাঠিচার্জের অভিযোগ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার SFI-এর সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য-সহ ছয় জন। গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ও সৃজন ভট্টাচার্য- সহ ধৃতদের মুক্তির দাবিতে সোমবার ভোর তিনটে থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নং গেটের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ SFI-এর।
সূত্রের খবর, রবিবার মধ্যরাতে যাদবপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন বেআইনি দোকান, গুমটি উচ্ছেদে বুলডোজ়ার আসতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। উচ্ছেদ অভিযান রুখতে যাদবপুরের ২১২ বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া এলাকায় সন্ধ্যা থেকে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন বাম-কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা। দোকান মালিকদের সঙ্গে ভিড় জমিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। উপস্থিত ছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশও। বাবাসাহেব আম্বেদকরের ছবি, সংবিধান হাতে ‘বুলডোজ়ার হটাও’ স্লোগান দিচ্ছিলেন তাঁরা। রাত নামতেই ধীরে ধীরে এলাকা ঘিরে ফেলতে শুরু করে RPF, পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী।
বুলডোজ়ার আসতেই তার সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ দেখাতে শুরু করেন SFI-এর সর্বভারতীয় সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য এবং বাম-কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা। বহুক্ষণ অপেক্ষার পরেও সরেননি তাঁরা। প্রতিবাদের আঁচ তীব্র হতেই অ্যাকশনে নামে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
অভিযোগ, ব্যাপক লাঠিচার্জ করা হয় বুলডোজ়ারের সামনে থাকা নেতা-কর্মীদের উপর। লাঠিচার্জের কারণে গুরুতর আহত হন বাম-কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। আহত হন সৃজন চক্রবর্তী, নাট্যকর্মী জয়রাজ ভট্টাচার্য-সহ বেশ কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জয়রাজের মাথা ফেটেছে বলে সূত্রের খবর। সব মিলিয়ে আহত অন্তত ১৫। রাতেই সৃজন-সহ আহতদের সিটি স্ক্যান হয়েছে KPC-তে।
উচ্ছেদে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় ছয় জনকে। গ্রেপ্তারির পরে পুলিশ ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার সময়ে সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, ‘বেআইনি কাজ করছে রেল। আদালত ও আইনকে উপেক্ষা করে উচ্ছেদ করতে এসেছিল।’
এ দিকে, এলাকা খালি করে যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন সব দোকান ভেঙে ফেলা হয়েছে। বাকি যে সব দোকান আছে, সেগুলিকে ১৫ দিনের নোটিস ধরানো হয়েছে রেলের পক্ষ থেকে। থমথমে এলাকা। উত্তেজনা সামাল দিতে মোতায়েন অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।