• ধসে তিস্তায় গাড়ি, দু’দিন পর উদ্ধার ৫ বছরের শিশু-সহ একই পরিবারের ৪ জনের দেহ
    প্রতিদিন | ০৮ জুন ২০২৬
  • শুক্রবার তলিয়ে গিয়েছিল গাড়িটি। দু’দিন পর রবিবার সেটি তিস্তা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। গাড়ির মধ্যেই মিলেছে ৫ বছরের শিশু-সহ একই পরিবারের ৪ জনের মৃতদেহ। আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে আসার সময় মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।

    নিহতরা হলেন, সব্য নিউপানে (২৭), স্মরিকা নিউপানে (২৯), টিকা মায়া দাহাল (৩১) ও দিত্য ছেত্রী (৫)। প্রাথমিক অনুমান, ধসের কবলে পড়ে গাড়িটি তিস্তার খাদে তলিয়ে যায়। সিকিমের বাসিন্দা ওই পরিবারটি শুক্রবার নিজেদের গাড়িতে করে শিলিগুড়িতে চিকিৎসারত আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে আসছিলেন। ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে আসার সময় বিকেল নাগাদ রোম্বি ও বাঘপুলের মাঝে ভেলাবাড়ি এলাকায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষবার কথা হয় তাঁদের। এরপরই তাদের মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই সময় প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঝরনা ফুলেফেঁপে ওঠে। এর ফলে উপর থেকে নেমে আসা ধসের কবলে পড়ে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিস্তার খাদে তলিয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার পর শুক্রবার রাত থেকেই শুরু হয় উদ্বেগ।

    আত্মীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার সকাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও সিকিম প্রশাসনের সহায়তায় যৌথ তল্লাশি শুরু করে এনডিআরএফ টিম। ডেপুটি কমান্ড্যান্ট সঞ্জয় রঞ্জনের নেতৃত্বে এই উদ্ধার অভিযানে নামে এনডিআরএফের জওয়ানরা। তল্লাশির শুরুতেই নদীর পাড় থেকে গাড়ির ব্যাটারি ও কিছু ভাঙা অংশ উদ্ধার হওয়ায় আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়। এরপরই তল্লাশি চালিয়ে নদীগর্ভ থেকে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। গাড়ির মধ্যেই ছিল চারটি দেহ। উদ্ধার হওয়া দেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে উত্তরবঙ্গের বিপর্যয় মোকাবিলা দলের কমান্ডান্ট অজয় কুমার বলেন, “শনিবার থেকে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। রাতে উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়। সকালে আবার শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। ডুবুরিদের নামানো হয়েছিল। কালীবাড়ির সামনে গাড়ির মধ্যে থেকে নিহতদের দেহ উদ্ধার হয়েছে।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)