উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে যাদবপুরে রাতভর উত্তেজনা। সোমবার সকালে থমথমে গোটা এলাকা। রবিবার রাতের উচ্ছেদের ঘটনায় আটক এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য-সহ বেশ কয়েকজন। পুলিশের লাঠিচার্জের জখমও হন অন্তত ১৩ জন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়েছে।
যাদবপুরের ২ নম্বর স্টেশনে উচ্ছেদের সূত্রপাত গত ২ জুন। ওইদিন স্টেশনের বাইরে বুলডোজার দেখা যায়। জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছেদের। প্রতিবাদে সরব হন সিপিএম নেতা-কর্মীরা। পুনর্বাসন না দিলে উচ্ছেদ সম্ভব নয় বলেই সুর চড়ান তাঁরা। সেই সময় অবশ্য কোনও অশান্তি হয়নি। রবিবার রাতে বুলডোজার চলতে পারে বলে আঁচ পাওয়া যায়। ২১২ বাসস্ট্যান্ডে ভিড় জমাতে থাকে বাম ও কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও অংশ নেন। উচ্ছেদের প্রতিবাদে স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা।
এই পরিস্থিতিতে ধীরে ধীরে এলাকা ঘিরে ফেলে রেলপুলিশ। বিশাল পুলিশবাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীও ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। সমস্ত রাস্তা উঁচু ব্যারিকেড করে ঘিরে ফেলা হয়। সেই সময় রাস্তায় বসে পড়েন সিপিএম এবং কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। পুলিশের তরফে এলাকা ফাঁকা করার আবেদনে শুরু হয় মাইকিং। তবে তাতেও লাভ হয়নি কিছু। উলটে আরও বাড়তে থাকে উত্তেজনা। এই পরিস্থিতিতে এলাকা ফাঁকা করতে শুরু হয় লাঠিচার্জ। তাতে গুরুতর জখম হন বেশ কয়েকজন। রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটে। কারও কারও মাথা ফেটে যায়। আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয় সৃজন ভট্টাচার্যকে। এরপরই নামে বুলডোজার। ভেঙে ফেলা হয় একের পর এক অবৈধ দোকান ও নির্মাণ। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে এলাকা খালি হয়ে যায়। চোখের সামনে রুজিরুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের। চোখের জলে ভাসছেন তাঁরা। বলে রাখা ভালো, এর আগে হাওড়া, শিয়ালদহ এবং দমদম স্টেশনেও রাতের অন্ধকারে উচ্ছেদ অভিযান চালায় রেল।