নাবালক ছেলেকে 'অনলাইন মোবাইল গেমিং'-এর চক্করে পড়তে বারবার বারণ করেছিলেন বাবা,মা ও দিদি। অভিভাবকদের নিষেধে সাই ভেঙ্কট মণিদীপ নামে ওই নাবালক কান তো দেয়ইনি, উল্টে তার ছুরির হামলায় নিহত হয়েছেন তার বাবা ও দিদি। গুরুতর জখম ভেঙ্কটের মা। সে নিজেও ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ভয়নাক আহত।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাতে কর্নাটকের কোপ্পাল জেলার গঙ্গাবতী গ্রামীণ পুলিশ থানা এলাকার হোসা অযোধ্যা গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। বল্লারির ভিআইএমএস হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মা সৌজন্যার সঙ্গেই ভর্তি রয়েছে সাই ভেঙ্কট। পুলিশ জানিয়েছে, ভেঙ্কটের ছুরির আঘাতে নিহত হয়েছেন তার বাবা ভেঙ্কট নাইডু (৪৫) এবং তার দিদি প্রগতি (১৯)। বাবা ভেঙ্কট বেসরকারি স্কুলে রাঁধুনির কাজ করতেন।
সূত্রের খবর, শনিবার রাতে ভেঙ্কট নাইডু তাঁর স্ত্রী , দুই ছেলেমেয়ে এবং বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সঙ্গে খাওয়ার পরে ঘুমোতে গিয়েছিলেন। স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের নিয়ে একটি ঘরে ঘুমোতেন ভেঙ্কট। তাঁর বাবা-মা পাশের ঘরে ঘুমোতেন।
পুলিশকে ভেঙ্কটের বাবা তাতারাও জানিয়েছেন, রাত সাড়ে দশটা নাগাদ তিনি তাঁর ছেলেকে চিৎকার করতে শোনেন। প্রথমে তিনি তাঁর ছেলের ঘরের দরজা নিজেই ঠেলে খোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরে প্রতিবেশীদের ডেকে এনে ঘরে ঢুকে ছেলে, বউমা ও নাতি-নাতনিকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরে পড়ে থাকতে দেখেন।
তাতারাও পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন, নাতি সাই ভেঙ্কট আচমকাই একটা ছুরি নিয়ে বাবা, মা ও দিদির উপর হামলা করে। তাতে নাতনি প্রগতি ঘটনাস্থলেই মারা যায়। ছেলে ভেঙ্কট মারা যান হাসপাতালে। বউমা সৌজন্যা হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। নাতি তার নিজের গলায় ছুরির কোপ মেরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। সে-ও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, বেশ কয়েকদিন ধরেই সাই ভেঙ্কটকে মোবাইল ফোনে অনলাইন গেমিং নিয়ে বকাঝকা করা হচ্ছিল। কয়েকবার তার হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়েও নেওয়া হয়। সেই আক্রোশেই সে বাবা, মা ও দিদির উপর হামলা করে।