• ‘সঠিক সময়ের অপেক্ষা করছিলাম...’, সাংসদ পদ ও তৃণমূল থেকে ইস্তফা সুখেন্দুশেখর রায়ের
    এই সময় | ০৮ জুন ২০২৬
  • দিল্লিতে তৃণমূল শিবিরে প্রথম ধাক্কা। জল্পনাকে সত্যি করে সংসদীয় দলেও বড় ফাটল। সোমবার সকালেই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুখেন্দুশেখর রায়। দল থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন বলে জানালেন তিনি। পদত্যাগের পরেই দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক এই প্রবীণ নেতা। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই দলে কোণঠাসা। সঠিক সময়ের অপেক্ষা করছিলাম।’ একইসঙ্গে দলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেছেন তিনি। দলে দেদার দুর্নীতি থেকে আরজি কর-এর প্রসঙ্গও তুলে এনে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য সদ্য প্রাক্তন সাংসদের।

    সোমবার সকালে উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণনের সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগ পত্র জমা দেন সুখেন্দুশেখর রায়। তার পরেই সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে জোড়াফুল শিবিরের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি। প্রাক্তন সাংসদের মতে, ১৫ বছর আগে শাসন ক্ষমতায় আসার সময় থেকেই দলে দুর্নীতি শুরু হয়েছে। সুখেন্দুশেখরের কথায়, ‘সিপিএম-কে সরকার থেকে সরানোই এদের লক্ষ্য ছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও আদর্শ কখনই ছিল না। তবে একটা কর্মসূচি ছিল।’

    এখানেই শেষ নয়, শীর্ষ নেতৃত্বকে খোঁচা দিয়ে দলত্যাগী নেতার বিস্ফোরক অভিযোগ, ‘ক্ষমতায় আসার পরে প্রথম বৈঠক হয়েছিল ডেলো পাহাড়ে চিটফান্ড কর্তাদের সঙ্গে।’ লক্ষ লক্ষ টাকায় ছবি বিক্রি নিয়েও তির্যক মন্তব্য শোনা যায় সুখেন্দু শেখর রায়ের মুখে। দলে দেদার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আমি বহুদিন ধরেই দলে কোণঠাসা। তৃণমূলের সৎ নেতারাই দলে কোণঠাসা। দুর্নীতিটাই দলের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ দলের নেতাদের আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্যতার কথা তুলে তা খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন তিনি।

    সুখেন্দুশেখর বলেন, ‘পার্টিতে এখন সবাই ন্যাশনাল জেনারেল সেক্রেটারি। বড় বড় পদে যারা ছিলেন, তাঁদের সবার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত হওয়া উচিত। গত কয়েক বছরে হাসপাতালে যে মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট সাপ্লাই হয়েছে তা কারা করেছে খতিয়ে দেখা উচিত।’

    আরজি কর-এর ঘটনার সময়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। তখন থেকেই তিনি দলে একঘরে বলে অভিযোগ করেছেন সুখেন্দুশেখর। বিধানসভা ভোটে রাজ্যে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই সুখেন্দুশেখর তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। পালাবদলের পরে প্রায় এক মাস পার হলেও দলের পরাজয় নিয়ে কোনও পর্যালোচনা হয়নি বলে তুমুল সমালোচনা করেছেন তিনি। প্রবীণ রাজনীতিবিদের কথায়, ‘মানুষের কথা না শুনলে সেই দলের পতন অনিবার্য। তৃণমূল এখন জনতার থেকে বিচ্ছিন্ন। ভাঙন যখন শুরু হয়, তখন তা সর্বগ্রাসী হয়।’

    দল নিয়ে সুখেন্দুশেখরের দাবিকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘সুখেন্দুশেখরবাবুর যা বলেছেন তাঁর সঙ্গে একমত। সুখেন্দুদা এক ইঞ্চি বাড়িয়ে বলেননি। গত ১৫ মাস আমিও লাস্ট বেঞ্চে বসে কাটিয়েছি। তখন আমারও খারাপ লাগত সুখেন্দুদার মতো সিনিয়র রাজনৈতিক নেতাকে এ ভাবে বসিয়ে রাখা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে আমার কথা হয়নি। কিন্তু আমি একেবারে সহমত। অনেকেই এরকম আচরণের শিকার। ভবিষ্যতে আরও অনেকে মুখ খুলবেন।’

    TMC ছেড়ে অন্যদলে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সরাসরি কোনও জবাব দেননি সুখেন্দুশেখর রায়। তবে তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ ৫৯ বছর রাজনীতিতে কাটানোর পরে আর এই ময়দানে থাকবেন কি না তা ভেবে দেখছেন। সোমবার সকালে সুখেন্দুশেখরের হাত ধরেই শুরু হলো তৃণমূলের সংসদীয় দলের ভাঙন। আরও রাজ্যসভা সাংসদদের পদত্যাগের জল্পনায় উত্তাল রাজনৈতিক ময়দান। অন্যদিকে, লোকসভার বিদ্রোহী সাংসদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

  • Link to this news (এই সময়)