এই সময়, জলপাইগুড়ি: ৩৬ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখনও ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে জলপাইগুড়ির জি়রো পয়েন্টে বসে থাকা নিজেদের দেশের ১০ জন নাগরিককে ফেরায়নি বিজিবি। শনিবার বিকেলের পরে রবিবার সকালেও বিএসএফ–বিজিবির মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিং হয়। কিন্তু সেই মিটিংয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি।
জানা গিয়েছে, ওই বাংলাদেশিদের কাছে নকল ভারতীয় আধার কার্ড থাকায় তাঁদের ভারতীয় বলে চিহ্নিত করে আর ফেরত নিতে চাইছে না বিজিবি। এ দিকে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় রবিবার জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের নগরবেরু বাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের জয়পুর সীমান্তে আরও কড়াকড়ি করেছে বিএসএফ। কাঁটাতারের ও পারে যাঁদের জমি আছে, তাঁদের সেখানে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
শনিবার সকালে জানা যায়, সীমান্তের জি়রো পয়েন্টে তিন শিশু, দুই মহিলা–সহ ১০ জন খোলা আকাশের নীচে বসে আছেন। এঁরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। শুক্রবার রাতে বিজিবি ওই ১০ জনকে ভারতে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু বিএসএফের বাধায় আর সেটা হয়নি। বর্তমানে তাঁরা বাংলাদেশের দিকেই মুখ করে বসে রয়েছেন। সীমান্ত গ্রাম জয়পুরের বাসিন্দা মোজাম্মেল সরকার বলেন, 'ঘরে বসেই আমারা শুনতে পাচ্ছি বিজিবি মাইকে বলছে, এই মহিলা–পুরুষরা ভারতের নাগরিক। ভারত তাদের বাংলাদেশি বলে সীমান্ত পার করে দিয়েছে। এটা মেনে নেওয়া হবে না।'
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি আধিকারিক বলেন, 'সূত্র মারফৎ আমাদের কাছে খবর আছে যে, ওই জায়গায় যাঁরা বসে আছেন, তাঁরা বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার বড়বাড়ি পাঠানপাড়ার বাসিন্দা। কোনও এক সময়ে তাঁরা অবৈধ ভাবে ভারতে ঢুকেছিলেন। বিভিন্ন জায়গা ঘুরে তাঁরা কলকাতায় থাকতে শুরু করেন। সেই সময়ে ভুয়ো আধার কার্ড–সহ অন্য কাগজপত্র তৈরি করান। সার শুরু হওয়ার পরে ভয়ে তাঁরা বাংলাদেশে ফিরে যান।'
এরপরেই তাঁদের জীবনে আঁধার নেমে আসে। কয়েক বছর ভারতে কাটিয়ে দেশে ফিরতেই গ্রামবাসীরা তাঁদের বাঁকা চোখে দেখতে শুরু করেন। কিছু ভারতীয় নাগরিক গ্রামে ঢুকেছেন, এই মর্মে খবর যায় বিজিবির কাছে। বিজিবি এসে তল্লাশি চালালে তাঁদের কাছ থেকে ভারতের ভুয়ো আধার কার্ড ও কিছু কাগজ পায়। এর পরেই তাঁদের ভারতীয় বলে চিহ্নিত করে পুশইন করার চেষ্টা করে বিজিবি।
অন্যদিকে এই ঘটনার জন্য সমস্যায় পড়েছেন জয়পুর গ্রামের বাসিন্দারা। নুর আলম নামে এক গ্রামবাসী বলেন, 'আমার কাঁটাতারের ও পারে কিছু জমি আছে। জমিতে কাজ থাকলেও তা করা যাচ্ছে না। বিএসএফ আপাতত ও পারে যেতে নিষেধ করে দিয়েছে।' আসনিমা বেগম নামে আরেক গ্রামবাসী বলেন, 'নিজের জমিতে যেতে পারছি না। সমস্যায় পড়েছি।' নগর বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান প্রমীলারানি বর্মন বলেন, 'আমার কাছে যা খবর আছে, তাতে সীমান্তের জ়িরো পয়েন্টে এখন ওই বাংলাদেশিরা বসে আছেন।'