• অবহেলার চেনা ছবি বদলে যাচ্ছে প্রতি শনিবার, পরম যত্নে মনীষীদের পাশে খুদে পড়ুয়ারা
    News18 বাংলা | ০৮ জুন ২০২৬
  • ছোট ছোট পড়ুয়ারা সমাজের মেরুদণ্ড এবং দেশের ভবিষ্যৎ। ছাত্রাবস্থা থেকেই তাদের মধ্যে তৈরি হয় মানবিক মূল্যবোধ। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে সমাজ সংস্কার, একাধিক মনীষী ও বিপ্লবীর আত্মবলিদান এবং সংগ্রামের ফসল আমাদের এই স্বাধীন দেশ। কিন্তু অনেক সময় বিভিন্ন জায়গায় অবহেলিত হয়ে পড়ে এই মহান মনীষীদের মূর্তি।

    বছরের নির্দিষ্ট কয়েকটি দিন বা জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকীতে এই মূর্তিগুলি পরিষ্কার করে মাল্যদান করা হলেও, অন্যান্য দিনগুলিতে সেগুলির দিকে কেউ তেমন ফিরেও তাকান না। তবে সমাজের এই চেনা ছবিটা বদলে দিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় ব্লকের একদল স্কুলপড়ুয়া। নারায়ণগড়ের ভগবতী দেবী শিক্ষা নিকেতনের পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের একটি দল এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতি শনিবার নিয়ম করে তারা বিদ্যালয় চত্বর এবং স্থানীয় বাজার এলাকায় থাকা বিভিন্ন মনীষীর মূর্তি পরিষ্কার করে।

    কোথাও স্বামী বিবেকানন্দ, কোথাও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কোথাও ভগবতী দেবী, আবার কোথাও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বা বিপ্লবী হেমচন্দ্র কানুনগোর মূর্তি, সবই পরম যত্নে পরিষ্কার করে এই খুদেরা। শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে বালতি, জল, শ্যাম্পু ও পরিষ্কার কাপড় নিয়ে তারা নিজেদের উদ্যোগেই এই কাজে নেমে পড়ে। কখনও কখনও তাদের এই মহৎ কাজে হাত লাগান বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও। কাজের চাপে শিক্ষকরা কোনও সপ্তাহে ভুলে গেলেও, পড়ুয়ারা তাঁদের মনে করিয়ে দেয়। কারও চাপে পড়ে নয়, বরং স্বতঃস্ফূর্তভাবেই তারা এই দায়িত্ব পালন করে আসছে।

    বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, মহান মনীষীদের আদর্শ ও কৃতকর্ম মনে রাখতে এবং তাঁদের প্রতি পড়ুয়াদের শ্রদ্ধা বাড়াতেই এই বিশেষ উদ্যোগ। শুধুমাত্র নিজেদের এলাকার মূর্তি পরিষ্কার করা নয়, বরং পড়ুয়াদের মধ্যে এমন এক সুন্দর মূল্যবোধ তৈরি করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে তারা দেশের যেখানেই কোনও অপরিষ্কার মূর্তি দেখবে, তা নিজের মত করে পরিষ্কার করার তাগিদ অনুভব করবে। খুদেদের এই উদ্যোগ সমাজের কাছে এক বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ভাল কাজের যে নির্দিষ্ট বয়স হয় না, তা প্রমাণ করে দিয়েছে পড়ুয়ারা।
  • Link to this news (News18 বাংলা)