এই সময়, ক্যানিং: শওকত মোল্লার ছেলের নদীর চর দখল করে রেস্তোরাঁ বানানোর অভিযোগের মধ্যেই নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে ঠিক পাশের বিধানসভা ক্যানিং পশ্চিমে। এই কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মাতলা নদীর চর দখল করে তিনি বৃদ্ধাশ্রম তৈরি করেছেন। ক্যানিং পূর্ব এবং পশ্চিমের দুই বিধায়কের বিরুদ্ধেই অভিযোগ, মাতলা নদীর দুই দিকের চর জবরদখল করে নিজেদের ব্যবসা করেছেন তাঁরা।
অভিযোগ, ২০২০ থেকেই ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাস পাঁচ বিঘারও বেশি মাতলার চরের জমি ঘিরে নিয়ে সেখানে নিজের মায়ের নামে বৃদ্ধাশ্রম তৈরি করেছেন। সেই সঙ্গে সঙ্গে বানিয়েছেন একটি আবাসিক ছাত্রদের পরিকাঠামো। ইতিমধ্যেই ক্যানিং মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিধায়কের চাঁদমণি বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র-সহ চলতি মাসের ১৮ জুন অফিসে যোগাযোগের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাতলা-২ গ্রাম পঞ্চায়েত লাগোয়া নদীর চরে বৃদ্ধাশ্রমটি বানানো হয়েছিল। সেই বৃদ্ধাশ্রমে ঘটা করে দুর্গাপুজোও করা হয় প্রতি বছর। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চুয়ালি সেই পুজোর উদ্বোধনও করতেন। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি এমনকি জনপ্রতিনিধিরাও সেখানে নিয়মিত যেতেন। বিজেপির অভিযোগ, কী ভাবে নদীর চর দখল করে একজন বিধায়ক একটি বৃদ্ধাশ্রম তৈরি করতে পারেন।
ওই বৃদ্ধাশ্রমটিতে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, রাঁধুনি ও নিরাপত্তাকর্মী সহ ২২ জন থাকেন। এ ছাড়া ৬ থেকে ১২ বছর বয়সি ফুটবল প্রশিক্ষণরত ফুটবলাররাও সেখানে থাকে আবাসিক হিসেবে। এই সংস্থার ট্রাস্টি বোর্ড সম্পাদক হলেন বিধায়ক পরেশরাম দাস। বিজেপি নেতা সঞ্জয় নায়েকের অভিযোগ, 'পরেশরাম দাস ক্যানিংয়ের গণতন্ত্র হত্যা করেছেন। পঞ্চায়েত নির্বাচন করতে দেননি। গোটা ক্যানিংয়ে নদীর চর দখল করে বিক্রি করেছেন। বিক্রি করেছেন নদীর সাদা বালি।'
এ বিষয়ে পরেশরাম বলেন, 'ক্যানিংয়ের এসডিও অফিস, এসডিপিও অফিস, বিডিও অফিস থেকে স্টেডিয়াম এমনকি থেকে দশ হাজারের বেশি মানুষ মাতলা নদীর চরে বসবাস করছেন। আমার বৃদ্ধাশ্রমটি তৈরি হয়েছে বছর পাঁচেকের বেশি সময় আগে। বহু জনহিতকার কাজ সেখানে করা হয়। জমিটি সরকারি ভাবে পাট্টা দেওয়া হয়েছে।' তাঁর কথায়, 'বৃদ্ধাশ্রম যেমন নদীর চরের জমিতে হয়েছে তেমনই ক্যানিংয়ের প্রশাসনের দপ্তরগুলোও তো মাতলা নদীর চরে রয়েছে। তাই সবার ক্ষেত্রে নিয়ম একই হওয়া উচিত।'