'সরকারের ভয়ঙ্কর রূপের' বিরুদ্ধে লড়াই, বলছেন মীনাক্ষী
আজকাল | ০৮ জুন ২০২৬
রিয়া পাত্র
বেআইনি হকারদের উচ্ছেদ, ক্ষমতায় আসার পর থেকে, বুলডোজারের গতিতে, বুলডোজার চালাচ্ছে সরকার। হাওড়া-শিয়ালদহ-দমদমের পর, যাদবপুর। প্রবল প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাম-কংগ্রেস পথে নামলেও, শেষমেশ ভাঙে প্রতিরোধ। পুলিশের ব্যাপক লাঠিচার্জের পরেই, শুরু হয় বুলডোজার অ্যাকশন। একের পর এক দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় বুলডোজার। আটক করা হয় এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যকে। আহত বহু। মধ্যরাত থেকেই অবস্থান করছেন বাম কর্মী-সমর্থকরা।
এই পরিস্থিতিতে কী বলছেন বাম নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি? রবিবার রাতেই যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল যাদবপুর। তার পরের সকালে আজকাল ডট ইন-কে মীনাক্ষী জানান-'আমরা জানি যে, যারা করছে এসব, তারা সরকারে। সরকারের কাজ শুধুমাত্র রুজি রুজি কেড়ে নেওয়া নয়। যদি সরকার বেআইনি হকার উচ্ছেদ করছে, তাহলে হকাররা সৎ পথে যে রোজগার করছে সেই রোজগারের ব্যবস্থাটাও করতে হবে। আমরা তো বাড়তি কিছু বলিনি। আমাদের দাবি কেবলমাত্র এটুকুই।'
বাম নেত্রীর সংযোজন, 'যাঁরা রোজগার করতে চান সৎপথে, তাঁদের ব্যবস্থাটা করুন। তারপরে তুলে দিন। এত সহজ কথা। এত সুস্থ সমাধানের পথ রয়েছে। সেই সুস্থ সমাধানের পথ না গিয়ে মারধর, ভাঙচুর, মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। আসলে এগুলো করতে চায়, কারণ, সরকার নিজের ভয়ঙ্কর রূপটা দেখাতে চায়।'
রবিবারের ঘটনার প্রেক্ষিতে, রাত থেকেই গণঅবস্থানের ডাক দিয়েছে বামেরা। এই পরিস্থিতিতে, লাল পতাকার পরবর্তী পদক্ষেপ কী? মীনাক্ষী বলছেন, 'আমাদের পার্টিতে ব্যক্তি আলাদা নয়। আজ এবং আগামিকাল, প্রত্যেক রাজ্য জুড়েই প্রতিবাদ চলবে। আজকে যাদবপুরের ঘটনাটা আসলে কেবল যাদবপুরের ঘটনা নয়, ঘটনাটা হচ্ছে আসলে হকারদের নিয়ে। তাঁদের উচ্ছেদ নিয়ে। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও উচ্ছেদ হচ্ছে। আর উচ্ছেদের সামনে, কেউ যদি দাঁড়িয়ে আছে, তাহলে বামেরাই।'
সাম্প্রতিক সময়ে, দমদম পেরিয়ে যাদবপুর , পুনর্বাসন ছাড়াই বেআইনি হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে, বারেবারে পথে নেমেছে বামেরা। এর আগেও, একদিন বামদের সম্মিলিত প্রতিবাদের মুখে ঘুরে যেতে হয়েছিল বুলডোজার। রবিবার উচ্ছেদের আশঙ্কায় রাত বাড়ার আগেই, বাম কংগ্রেসের নেতারা জমায়েত করেন যাদবপুরের রেলস্টেশনের নির্দিষ্ট এলাকায়। উপস্থিত ছিলেন সৃজন ভট্টাচার্য, সুজন চক্রবর্তী-সহ বাম, প্রদীপ প্রসাদ, সৌরভ প্রসাদ, আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়-সহ কংগ্রেস নেতা, কর্মীরা। হকার উচ্ছেদের ঘটনায়, বামেদের প্রথম থেকেই বক্তব্য, কমার্শিয়াল প্লট না দিয়ে, হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা যাবে না। প্রাথমিকভাবে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ দিয়ে বুলডোজারের গতি আটকে দেওয়া হলেও, আচমকা শুরু হয় লাঠিচার্জ। লাঠিচার্জের পরেই, সক্রিয় হয় বুলডোজার।