সুখেন্দুশেখর রায় তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ হিসেবে ইস্তফা দিতেই আসরে নেমে পড়লেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহীদের সংখ্যা ঘণ্টা ঘণ্টায় বাড়বে বলেও দাবি করলেন তিনি। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস দল ভেঙে গিয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করে ইতিমধ্যেই বিধানসভা সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করে ফেলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী বিধায়করা। দিল্লিতে বড় ভাঙনের জল্পনায় উচ্ছ্বসিত ঋতব্রত।
তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সব সম্পর্ক চুকিয়ে ফেললেন
আজ অর্থাত্ সোমবার সুখেন্দুশেখর রায় রাজ্যসভা সাংসদ পদে ইস্তফা দেন। একই সঙ্গে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস থেকেও পদত্যাগ করেন। আরজি কর কাণ্ডের সময় সরব হয়েছিলেন সুখেন্দুশেখর। তারপর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে কোণঠাসা ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে ভরাডুবির পরে ফের সরব হন সুখেন্দু। আজ ইস্তফা দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সব সম্পর্ক চুকিয়ে ফেললেন।
সুখেন্দুশেখরের ইস্তফায় উচ্ছ্বসিত ঋতব্রত
সুখেন্দুশেখর ইস্তফা দিতেই উত্সাহিত দেখাচ্ছেন ঋতব্রতকে। বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের ঋতব্রত বোঝালেন 'ইচ্ছের ঐক্য'। বললেন, 'আমরা সব সময়ই মনে করছি, ইচ্ছের ঐক্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুখেন্দুদা যে কথাগুলি বলেছেন, আমরা একমত। তবে ইস্তফার সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত, আমাদের সঙ্গে আলোচনা হয়নি। আমার মনে হয়, আমাদের পরিষদীয় দলের ইচ্ছের ঐক্য দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। আমার সঙ্গে লোকসভার বেশ কয়েকজন সাংসদের কথা হয়েছিল। এঁরা সবাই সংসদীয় দলের সদস্য। এরা সবাই যদি একত্রে বসে আলোচনা করেন, তাতে কী অসুবিধা আছে? সুখেন্দুশেখর রায়কে বরাবর লাস্ট বেঞ্চে বসানো হয়েছে। আমি বলেছি, অভিষেক ব্যানার্জির সংগঠনে, সং আছে গঠন নেই। সুখেন্দুদা যে কথা বলেছেন, তাতে একশো শতাংশ একমত। আমিও একই ব্যবহার পেয়েছি। আজ সুখেন্দুদা বলছেন, কাল পার্লামেন্টে আরও অনেকে বলবেন। এই সংখ্যা বাড়ছে।'
দিল্লিতে কী চলছে?
দিল্লিতে যখন তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে যাচ্ছে, তখনই INDIA জোটের বৈঠকও চলছে। ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাত্পর্যপূর্ণ ভাবে আজ দিল্লিতে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। সূত্রের খবর, শুভেন্দুর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৪ জন বিদ্রোহী সাংসদ গোপন বৈঠকও সেরে ফেলেছেন।