• ২১ জুন পর্যন্ত লকডাউনে প্রশ্ন প্রস্তুতকারীরা! নিটের পুনঃপরীক্ষায় জালিয়াতি রুখতে বজ্রআঁটুনি কেন্দ্রের
    প্রতিদিন | ০৮ জুন ২০২৬
  • প্রশ্নফাঁসের জেরে দেশজুড়ে বিতর্কের পর এবার নিটের পুনঃপরীক্ষায় বজ্রআঁটুনি কেন্দ্রের। কোনওরকম জালিয়াতি আটকাতে নিট পরীক্ষার প্রশ্ন প্রস্তুতকারীদের চক্রব্যূহে বন্দি করতে চলেছে জাতীয় পরীক্ষক সংস্থা এনটিএ। জানা যাচ্ছে, ২১ জুন অর্থাৎ নিটের পুনঃপরীক্ষার দিন পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তায় লকডাউনে রাখা হবে প্রশ্ন প্রস্তুতকারীদের। এই সময়ের মধ্যে কেউ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন না। ফোন ব্যবহার বা কারও সঙ্গে কথাও বলতে পারবেন না তাঁরা।

    গত ২ মে ২২ লাখ পরীক্ষার্থী নিট পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এরপরই সামনে আসে সেই পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের তথ্য। ঘটনার তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের বেশিরভাগই অধ্যাপক এবং তাঁরা পরীক্ষক সংস্থা এনটিএ-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অর্থাৎ সর্ষের মধ্যেই ছিল ভূত। এই ঘটনায় বিতর্ক চরমে উঠতেই নিটের পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় এনটিএ। আগামী ২১ জুন হতে চলেছে সেই পরীক্ষা। এখানে যাতে কোনওরকম জালিয়াতির ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে কেন্দ্র।

    নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে শীর্ষ আধিকারিকদের তরফে জানানো হয়েছে, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী, মডারেটর, অনুবাদক-সহ যারা যারা যুক্ত তাদের প্রত্যেককে কড়া নিরাপত্তায় লকডাউনে রাখা হচ্ছে। সেখানে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্মার্টওয়াচ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। ইন্টারনেট ব্যবহারও সীমিত করা হয়েছে। বাইরের সঙ্গে যোগাযোগ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। যেখানে তাঁদের রাখা হচ্ছে সেখানে অনুমতি ছাড়া কারও প্রবেশের অধিকার নেই। আগামী ২১ জুন পর্যন্ত এই লকডাউন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকবেন প্রশ্ন প্রস্তুতকারী ও তাঁদের সঙ্গে যুক্ত সকল কর্মীরা।

    এনটিএ-র তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখতে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে যার প্রথম ধাপ হল, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারীদের পৃথক রাখা। প্রশ্নপত্র তৈরি ও অনুবাদ থেকে শুরু করে নিরীক্ষণ, মুদ্রণ, প্যাকেজিং, পরিবহন এবং তা পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়কে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। শুধু তাই নয়, প্রশ্নপত্র পরিবহণকে নিরাপদ রাখতে বায়ুসেনার বিমান এবং তা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছন পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মোড়কে মুড়ে ফেলা হচ্ছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)