আগেই ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক বয়কট করেছে ডিএমকে। সিপিএম হাজির থাকলেও আগেই এই বৈঠক নিয়ে কড়া চিঠি দিয়েছে। নেই আপও। জোটে থাকলেও আসন নিয়ে কংগ্রেসের উপর ক্ষুব্ধ জেএমএমও। কার্যত ভাঙনের শঙ্কায় বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া জোট! আর সেই ভয় নিয়েই দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে শুরু হল জোটের বৈঠক। যেখানে উপস্থিত রয়েছেন ২৩টি দলের বিরোধী দলের নেতা এবং তাঁদের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে যোগ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এমনকী রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী, ওমর আবদুল্লা, তেজস্বী যাদব এবং অখিলেশ সিংয়ের মতো নেতারাও এই বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন।
ইতিমধ্যে বৈঠকের একটি ছবি সামনে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একেবারে সোনিয়া গান্ধীর পাশে বসে রয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর একপাশে বসে রয়েছেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বৈঠকের মাঝেই তিনজনকে আলোচনা করতেও দেখা যাচ্ছে। যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিকমহল। বঙ্গ ভোটের আগে কংগ্রেসের সঙ্গে কার্যত সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। জোট নয়, বরং প্রত্যেকটি আসনেই তৃণমূল-বিজেপির বিরুদ্ধে প্রার্থী দেয় কংগ্রেস। প্রচারে একে অপরের বিরুদ্ধে সুর চড়ায়। এমনকী বাংলায় এসে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়ান রাহুল গান্ধী। পালটা জবাব দেয় তৃণমূলও।
যদিও বঙ্গে তৃণমূলের পরাজয় ঘটতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেন রাহুল গান্ধী। এমনকী কথা হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও। যা নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছিল। তাৎপর্যপূর্ণভাবে গত ৯ তারিখ অর্থাৎ রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন অনুষ্ঠানে কালীঘাটের বাড়ি থেকে সমস্ত বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিকদলকে জোটে আসার আহ্বান জানান তৃণমূল সুপ্রিমো। এমনকী এই জোটে বাম এবং অতিবাম দলগুলিকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এরমধ্যে এদিনের ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, ‘ইন্ডিয়া’-র বৈঠককে এবার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গে ভোটে বিপর্যয়ের পর যেভাবে বিধানসভায় ৫৮ জন বিধায়ক নিজেদের ব্লক তৈরি করেছেন, তেমনই পরিস্থিতি সংসদে। ঠিক সেই সময়ে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে মমতা ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনকে টার্গেট করে ‘একের বিরুদ্ধে এক’ প্রার্থীর প্রস্তাবম দিতে পারেন বলে খবর।