আগেই হাতছাড়া হয়েছে বিধানসভায় পরিষদীয় দল। আশঙ্কা সত্যি করেই এবার লোকসভাতেও সংসদীয় দল হাতছাড়া হল। দিল্লিতে বসে সোনিয়া-রাহুল গান্ধীর সঙ্গে যখন ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক সেই সময়েই তাঁর সাধের সংসার ভেঙে খান-খান। তৃণমূলের প্রায় ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ’তে যোগ দিতে চেয়ে চিঠি দিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে। বিদ্রোহীদের দাবি, সংখ্যাটা আরও বাড়বে। এহেন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রইলেন মাত্র গুটিকয়েক সাংসদ। সেই সংখ্যাটা একেবারে চমকে দেওয়ার মতো।
রাজ্যের মসনদে বদল আসতেই রাজ্য-রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে যায়। বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শুরু হয় বিদ্রোহ! এরপরেই পরিষদীয় দলের ‘মালিকানা’ হাতছাড়া হয়েছে তৃণমল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ৮০ জনের মধ্যে ৫৮ জন বিধায়কই নেত্রীর সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। সেই থেকেই শোনা যাচ্ছিল, একই নকশায় সংসদীয় দলও এবার ভাঙতে চলেছে। সেই জল্পনার মাঝেই ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে রবিবার দিল্লি উড়ে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, সোমবার সকাল থেকে শুরু হয় বৈঠক। সেই বৈঠকেই নজিরবিহীন ছবি সামনে আসে। দেখা যায়, বৈঠকের শুরুতেই সোনিয়া গান্ধীকে জড়িয়ে ধরছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী বৈঠকেও একেবারে তাঁর পাশে বসতে দেখা যায় তৃণমূল সুপ্রিমোকে। রাজধানীতে সেই বৈঠক চলাকালীনই ভেঙে টুকরো হয়ে গেল তৃণমূলের সংসদীয় দল। বস্তুত, ছবি যা দাঁড়িয়েছে তাতে বলাই যায়, মমতা ইন্ডিয়ায়, আর তৃণমূল এনডিএ-তে!
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে এনডিএ ব্লকে যুক্ত হতে চেয়ে সই করলেন, কাকলি ঘোষদস্তিদার (বারাসত), প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (হাওড়া), শতাব্দী রায় (বীরভূম), অসিত মাল (বোলপুর), বাপি হালদার (মথুরাপুর), জুন মালিয়া (মেদিনীপুর), জগদীশ বাসুনিয়া (কোচবিহার), কালীপদ সোরেন (ঝাড়গ্রাম), অরূপ চক্রবর্তী (বাঁকুড়া), পার্থ ভৌমিক (বারাকপুর), শর্মিলা সরকার (বর্ধমান পূর্ব), ইউসুফ পাঠান (বহরমপুর), দেব (ঘাটাল), আবু তাহের (মুর্শিদাবাদ) এবং খলিলুর রহমান (জঙ্গিপুর), রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (হুগলি)। রয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন সাংসদের নাম।
অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, সাজদা আহমেদ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মালা রায়। এদিকে বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, তাঁদের শিবিরে সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে কীর্তি আজাদ এবং শত্রুঘ্ন সিনহার ভূমিকা নিয়ে রয়েছে জল্পনা।