• গ্রেপ্তার হতেই ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর জনতার, উদ্ধার প্রচুর ত্রাণসামগ্রী
    প্রতিদিন | ০৮ জুন ২০২৬
  • বেঙ্গল এসটিএফ এবং জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে আজ সকালে বাংলা-নেপাল সীমান্ত থেকে ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে (Jahangir khan) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গ্রেপ্তার হতেই তাঁর বাড়ি ও বাড়ি সংলগ্ন পার্টি অফিসে জনরোষ আছড়ে পড়ল। ফলতায় অবস্থিত তাঁর বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালালেন উত্তেজিত জনতা। পার্টি অফিসে থরে থরে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী সাজানো রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। ভাঙচুরের পাশাপাশি স্থানীয়দের মিষ্টি বিলি করতে দেখা যায়।

    জাহাঙ্গিরের গ্রেপ্তারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই শ্রীরামপুরে তাঁর পার্টি অফিসের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয়রা। এরপর তালা ভেঙে অফিসের ভিতরে ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডব চলে। ভাঙা হয় টেবিল, চেয়ার, টিভি-সহ বিভিন্ন আসবাবপত্র। জাহাঙ্গিরের নির্মীয়মাণ বাড়িতেও ভাঙচুর চালান উত্তেজিত জনতা। পার্টি অফিসের ভিতরে মজুত ছিল বহু ত্রিপল-সহ সরকারি ত্রাণ। মুখ ঢেকে সেগুলি লুটপাট চালান কয়েকজন।

    উল্লেখ্য, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর গোটা রাজ্যের মধ্যে একমাত্র ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু পুনর্নির্বাচনের ২ দিন আগেই ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান জাহাঙ্গির। এই নির্বাচনের পর থেকে বেপাত্তা হয়ে গিয়েছিলেন জাহাঙ্গির। বাংলা-নেপাল সীমান্তে গা ঢাকা দিয়েছিলেন ফলতার ‘ত্রাস’। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও সন্তান। পুনর্নির্বাচনে তাঁর স্ত্রী ভোট দিলেও স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’কে দেখা যায়নি। এরপর চম্পট দেন তিনি। মোবাইল নম্বর বদলে ফেলেছিলেন জাহাঙ্গির। বাচ্চাদের নাকি নেপালের স্কুলে ভর্তি করার জন্য খোঁজখবরও শুরু করেছিলেন। নতুন মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে বেঙ্গল এসটিএফের তদন্তকারীরা জাহাঙ্গিরের খোঁজ পান। সেই অনুযায়ী বাংলা-নেপাল সীমান্তে হানা দেন তদন্তকারীরা। হাতেনাতে পাকড়াও করা হয় ‘পুষ্পা’কে। সূত্রের খবর, সীমান্ত পার করে নেপাল পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিলেন তিনি। সোমবার সীমান্ত এলাকা থেকে এসটিএফ ও পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)