• বর্ধমান শহরে দশ কাঠা জমির উপরে দোতলা বাড়ি! এই সম্পত্তি হাতাতেই খুন দিল্লির বাঙালি অধ্যাপিকা?
    News18 বাংলা | ০৮ জুন ২০২৬
  • বর্ধমান শহরের প্রাণকেন্দ্রে কার্জনগেটের কাছে ১০ কাঠা জমির উপরে তৈরি দোতলা বাড়ি৷ স্থানীয়রা বলছেন, জমি সহ এই বাড়ির আনুমানিক বাজারদর অন্তত তিন থেকে চার কোটি টাকা৷ উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই বাড়ির জন্যই কি খুন হতে হল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালকে?

    গত বৃহস্পতিবার পূর্ব দিল্লির একটি অভিজাত আবাসনের ফ্ল্যাটে খুন হন দেবস্মিতা পাল নামে বছর ৪২-এর ওই বাঙালি অধ্যাপিকা৷ খুনের অভিযোগে আজই বর্ধমান শহরের কার্জনগেট এলাকা থেকে রামপ্রসাদ দাস এবং বনশ্রী দাস নামে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ এবং বর্ধমান থানার পুলিশের একটি যৌথ দল৷ জানা গিয়েছে, উত্তরাধিকার সূত্রে বর্ধমানের কার্জনগেট সংলগ্ন বাদামতলা এলাকায় একটি বাড়ি পেয়েছিলেন দেবস্মিতা৷ সেই বাড়িতেই ভাড়া থাকত অভিযুক্ত দাস দম্পতি৷ পুলিশের অনুমান ভাড়া বাড়ির দখল নিতেই ওই অধ্যাপিকাকে খুনের ছক কষে বর্ধমানের দম্পতি৷ তদন্তে নেমে পুলিশের দাবি, দিল্লিতে গিয়ে বাড়ি ভাড়ার দেওয়ার টোপ দিয়ে দেবস্মিতার ফ্ল্যাটে যায় রামপ্রসাদ এবং বনশ্রী দাস৷ নিজেদের সঙ্গে করে দশ বছরের ছেলেকও নিয়ে যায় তাঁরা৷ এর পর সুযোগ বুঝে প্রথমে ইস্ত্রি দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং পরে ক্ষুর দিয়ে দেবস্মিতা পালের হাতের শিরা সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে দু জন৷ খুনের পর পোশাক পরিবর্তন করে দেবস্মিতার ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে আসে তাঁরা৷

    তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, বর্ধমান শহরের বাদামতলা এলাকার এই বাড়িটি আসলে দেবস্মিতার মামাবাড়ি ছিল৷ বছর তিনেক আগে ওই বাড়ির একতলায় ভাডা় আসে রামপ্রসাদ এবং বনশ্রী৷

    স্থানীয় সূত্রে খবর, অভিযুক্ত রামপ্রসাদ দাস ওই এলাকারই বাসিন্দা৷ তাঁর স্ত্রী বনশ্রীর বাপের বাড়ি কালনা গেট এলাকায়৷ প্রেম করেই বিয়ে হয় দু জনের৷ মাসে প্রায় দশ হাজার টাকা ভাডা় দিয়ে ওই বাড়িতে থাকতেন তাঁরা৷ কিন্তু রামপ্রসাদ বা তাঁর স্ত্রীর আয়ের উৎস নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী৷ কারণ কখনও রামপ্রসাদ বলত সে শিক্ষকতা করে৷ কখনও আবার ইন্টেরিয়র ডেকরেশনের কাজ করে বলে দাবি করত সে৷

    কিন্তু গত বেশ কয়েক মাস ধরে রামপ্রসাদদের ওই বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন দেবস্মিতা৷ সম্ভবত বর্ধমানের বাড়িটি বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর৷ কিন্তু নানা অছিলায় বাড়ি ছাড়ছিল না রামপ্রসাদ৷ দেবস্মিতা এবং তাঁর পরিবার বরাবরই নয়ডার বাসিন্দা৷ কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকতেন ওই সহকারী অধ্যাপিকা৷ বছরে একবার মাকে নিয়ে বর্ধমানের বাড়িতে আসতেন তিনি৷ আগামী ১৫ জুন তাঁর বর্ধমানে আসার কথা ছিল বলে পরিবার সূত্রে খবর৷ তার আগেই রামপ্রসাদ এবং বনশ্রী দেবস্মিতাকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষে৷
  • Link to this news (News18 বাংলা)