'সবুজ করিডরে' বারো মাস যেন বসন্ত, স্বর্গের মতো সুন্দর এই রাস্তায় গাড়ি চালানোর লোভ সামলানো দায়
News18 বাংলা | ০৮ জুন ২০২৬
শিউলি থেকে পলাশ, কৃষ্ণচূড়া থেকে রাধাচূড়া, কংক্রিটের রুক্ষতাকে ছাপিয়ে এখন রাস্তার দু’ধারে কেবলই সবুজ আর রঙবেরঙের খেলা। খড়গপুর-বালেশ্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে যাঁরা যাতায়াত করেন, তাঁদের নিত্যদিনের সঙ্গী এখন এমনই এক চোখ জুড়ানো সবুজের সমারোহ। বারো মাস যাতে রাস্তার ধারে কোনও না কোনও ফুল ফুটে থাকে, সেই ভাবনা থেকেই এই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ।
শুধুই কি সৌন্দর্য? এর নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে পরিবেশ ও সড়ক সুরক্ষার এক সুপরিকল্পিত ভাবনা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি মূলত তাদের সবুজায়ন প্রকল্পেরই একটি অংশ। দেশি-বিদেশি এবং ভেষজ গাছ মিলিয়ে এক অভূতপূর্ব জীববৈচিত্র্য গড়ে তোলা হয়েছে এই পথে। শরতে শিউলি, বসন্তে পলাশ বা শিমুল এবং গ্রীষ্মে ছায়া দিচ্ছে কৃষ্ণচূড়া, জারুল কিংবা বকুলের সারি। সেই সঙ্গে রয়েছে নিম, অর্জুন, বাবলার মত দেশি ভেষজ উদ্ভিদ। এমনকি ‘মৌমাছির জন্য গাছ’, এমন একটি বিশেষ প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে কীটপতঙ্গ ও পাখিরা এই সবুজের মাঝে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পায়। প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ গাছ লাগানো হয়েছে, যার নিয়মিত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ চলে।
সৌন্দর্যায়নের পাশাপাশি এই গাছগুলি সড়কের সুরক্ষাতেও বড় ভূমিকা পালন করছে। দুই লেনের মাঝখানে থাকা ডিভাইডারে লাগানো করবী বা বেগনভিলিয়ার ঝোপ রাতে উল্টোদিক থেকে আসা গাড়ির হেডলাইটের তীব্র আলো আটকে দেয়। এগুলি ‘লাইট কাটার’ হিসেবে কাজ করায় চালকদের রাতে গাড়ি চালাতে সুবিধা হয়। তাছাড়া গাছগুলি রাস্তার তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখে এবং শিকড় দিয়ে মাটি আঁকড়ে ধরে ক্ষয় রোধ করে রাস্তাকে মজবুত রাখে।
খড়গপুর-বালেশ্বর জাতীয় সড়কের প্রজেক্ট হেড সঞ্জয়সুন্দর ঘটক বলেন, “দুর্ঘটনার অভিঘাত কমানোর পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং যাত্রীদের ভ্রমণ-ক্লান্তি দূর করা আমাদের মূল লক্ষ্য।” এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন অনেকে। রাজ্য সড়কগুলিতে যেখানে কেবল ইউক্যালিপটাস বা আকাশমণির একাধিপত্য, সেখানে জাতীয় সড়কের এই দেশি গাছের সম্ভার সত্যিই চোখের আরাম দেয়। সব মিলিয়ে, পথচলার একঘেয়েমি কাটিয়ে এই পথ এখন পর্যটক থেকে নিত্যযাত্রী, সকলেরই মন জয় করেছে।