: ২০২৬ এ রাজ্যে নতুন করে পালাবদলের পর জঙ্গলমহলকে সার্বিকভাবে ঢেলে সাজানোর নেওয়া হয়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলায় নতুনভাবে বিছানো হবে রেলপথ। তবে তৎকালীন সময়ে যোগাযোগ আরও বেশি উন্নত করার জন্য যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হল ‘জঙ্গলকন্যা সেতু’। সুবর্ণরেখা নদীর উপর নির্মিত প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলাকেই নয়, জুড়ে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা রাজ্যকেও। জঙ্গলমহলের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভসরা বা জঙ্গলকন্যা সেতু আজ গোটা রাজ্যের অন্যতম দীর্ঘ এক সেতু, যা এই অঞ্চলে উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। তৎকালীন সময়ে মাওবাদীদের ডেরা ছিল এই জায়গা। তবে সরকারিভাবে পালাবদলের পর তৎকালীন রাজ্য সরকারের উদ্যোগে তৈরি হয় এই সেতু।
স্থানীয়দের মতে, বামফ্রন্ট আমলে সুবর্ণরেখা নদী প্রাকৃতিকভাবে ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরকে বিভক্ত করে রেখেছিল। সেই সময় প্রতি বছর নদীর উপর অস্থায়ী ‘ফেয়ার ওয়েদার ব্রিজ’ বা কাঠের সেতু তৈরি করতে বিপুল অর্থ ব্যয় হত। বর্ষার সময় জলস্তর বাড়লে সেই সেতু দিয়ে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যেত এবং দুই পাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তেন সাধারণ মানুষ। ২০১১ সালে রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর, ঝাড়গ্রামের খড়িকামাথানিতে তৎকালীন রাজ্য সরকারের উদ্যোগে প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকেই এই স্থায়ী সেতু নির্মাণের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের পর দ্রুত গতিতে শুরু হয় নির্মাণকাজ। অবশেষে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরেই উদ্বোধন হয় জঙ্গলকন্যা সেতুর।
প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ, এক লেনের হলেও উভয়মুখী যান চলাচলের জন্য প্রশস্ত এই সেতু দিয়ে এখন সারা বছর, দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করা যায়। বর্ষায় সুবর্ণরেখার জলস্তর বাড়লেও তা সেতুর উচ্চতাকে কখনও ছুঁতে পারে না। পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ি এবং ঝাড়গ্রামের নয়াগ্রাম ব্লকের মধ্যে এই সেতুবন্ধন স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় এক অভাবনীয় পরিবর্তন এনেছে।
এই পথ ধরে এখন খুব সহজেই ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলায় পৌঁছে যাওয়া যায়। ফলে এলাকার শিক্ষা, চিকিৎসাব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে পর্যটন শিল্পেও এসেছে নতুন গতি। এলাকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভাল হয়েছে। কোনও রকম বাধা ছাড়াই জঙ্গলমহলের সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে জঙ্গলকন্যা সেতু আজ এক ঐতিহাসিক মাইলফলকের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে।